আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের বার্ষিকী: বনধে কাশ্মিরের জনজীবন বিপর্যস্ত
আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের চতুর্থ বার্ষিকীতে বনধের কারণে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বাজার ঘাট, গণপরিবহন ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। খুব কম সংখ্যায় বেসরকারি যানবাহন সড়কে দেখা গেছে।
২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সংসদে হামলা চালানোয় জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতে উত্তর কাশ্মিরের বাসিন্দা আফজাল গুরুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিহার জেলে ফাঁসিতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কাশ্মিরে আন্দোলনরত নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক, মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিকদের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি আফজাল গুরুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী এবং ১১ ফেব্রুয়ারি মকবুল ভাটের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনধের ডাক দেয়া হয়। মকবুল ভাটকে ১৯৮৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসি দেয়া হয়।
অন্যদিকে, আগামীকাল (শুক্রবার) লালচক থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের দফতরে (UNMOGIP) পদযাত্রার ডাক দেয়া হয়েছে।
তিন দিনের কর্মসূচিতে সহিংসতার আশঙ্কায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে স্পর্শকাতর এলাকায় সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মিরের কয়েকটি জেলায় পরস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শ্রীনগরের ডাউন টাউন এলাকায় কারফিউয়ের মতো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শ্রীনগরের রায়নাবাড়ি, নৌহাট্টা, খানইয়ারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগ ও নিরাপত্তা এজেন্সির পক্ষ থেকে পরিস্থিতির দিকে একনাগাড়ে নজর রাখা হচ্ছে। সহিংসতার আশঙ্কায় বানিহাল-বারামুল্লার মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯