অসমে বিজেপি-অগপ জোট: নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i3364-অসমে_বিজেপি_অগপ_জোট_নেতা_কর্মীদের_মধ্যে_তীব্র_ক্ষোভ
৩ মার্চ (রেডিও তেহরান): ভারতের অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি-অগপ জোট হওয়ায় রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিল্লিতে বিজেপি’র সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র বাড়িতে বিজেপি এবং অসম গণ পরিষদ বা অগপ নেতাদের মধ্যে বৈঠকে জোট সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ০৩, ২০১৬ ০৭:৪৭ Asia/Dhaka
  • অসমে বিজেপি-অগপ জোট: নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

৩ মার্চ (রেডিও তেহরান): ভারতের অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি-অগপ জোট হওয়ায় রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিল্লিতে বিজেপি’র সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র বাড়িতে বিজেপি এবং অসম গণ পরিষদ বা অগপ নেতাদের মধ্যে বৈঠকে জোট সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

মিডিয়াতে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা অসমজুড়ে বিজেপি এবং অগপ’র মধ্যে তৃণমূলস্তরের তলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় দলীয় দফতর ভাঙচুর এমনকি আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি জায়গায় রাজ্য বিজেপি প্রেসিডেন্ট সর্বানন্দ সনোয়ালের কুশপুতুল দাহ করেছে দলীয় কর্মীরা।

‘আসু’ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়া শঙ্করপ্রসাদ রায়ের অনুগামী বিজেপি কর্মীরা এদিনই বাঙাইগাঁওয়ে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এই কেন্দ্রটি অগপকে ছেড়ে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শঙ্করপ্রসাদ রায়। বিজেপি কর্মীরা তাদের দফতর ভাঙচুর করার পাশাপাশি ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে এবং আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

শিবসাগর জেলার আমগুড়ি কেন্দ্রটিও অগপকে ছেড়ে দেয়ায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা শিবসাগর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। তাদের দাবি, কোনোমতেই আমগুড়ি কেন্দ্রটি অগপকে দেয়া চলবে না। এসবের পাশাপাশি বকো, টিয়ক এবং সরুপথরেও বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

বিজেপি’র হাতে থাকা পাটাছারকুচি এবং কমলপুর কেন্দ্রটিও অগপ’র হাতে যেতে বসায় সেখানকার বিজেপি বিধায়করাও কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অগপ এবং বিজেপি’র মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের প্রস্তাব থাকায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বিজেপি’র অভ্যন্তরে। কমলপুরের বিজপি বিধায়ক যাদব ডেকা তো বলেই ফেলেছেন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হলে অনেক আসনেই হারতে হবে দলকে।’ তার মন্তব্যকে দলীয় প্রধানদের সিদ্ধান্তকে কার্যত চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকেই।

অন্যদিকে, মহমরা কেন্দ্রটি বিজেপিকে ছেড়ে দেয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অগপ’র মধ্যে। মহমরার সমস্ত আঞ্চলিক কমিটির সদস্যরা একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পুব গুয়াহাটি এবং অন্যান্য কয়েকটি কেন্দ্রেও দলটির মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

অসম বিজেপি প্রদেশ প্রেসিডেন্ট সর্বানন্দ সনোয়াল বলেছেন, ‘অসমে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে কংগ্রেস এখানে খুব শক্তিশালী। কংগ্রেসকে হারাতে এখানে জোট গড়া প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, বিজেপি এবং অগপ’র মধ্যে দুই একদিনের মধ্যে আসনের ভাগ-বাটোয়ারা চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি-অগপ জোট চূড়ান্ত হওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তিনি রাজ্যে দেড় দশকের পুরোনো গুপ্তহত্যা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘দুই দলের আঁতাত হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি। প্রমাণ করে দেব দুটি দলই ভ্রষ্টাচারী।’

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, অসমে গুপ্তহত্যা কারা করেছে? আজ প্রমাণ হয়েছে, অগপ, বিজেপি মিলেই গুপ্তহত্যা করেছে অসমে। নিরীহ যুবকদের হত্যা করা হয়েছে।’

রাজ্য বিজেপি’র কাণ্ডারি সর্বানন্দ সনোয়াল এবং হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে ‘জিরো’ বলেও কটাক্ষ করেন গগৈ। ‘জিরো’ হওয়ার জন্যই তাদের অন্য দলের সাহায্য নিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। #

রেডিও তেহরান/এমএএইচ/এআর/৩