কাশ্মির বন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত, বেসামরিক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
-
কাশ্মির বন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হরতালের ফলে সেখানকার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়েছে। আজ (বুধবার) কাশ্মির উপত্যকার অফিস, দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেট্রলপাম্প, গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে সেখানে বানিহাল-বারামুল্লার মধ্যে রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
আজ (বুধবার) কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইইউএসটি) এবং কাশ্মিরের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কর্তৃপক্ষ শ্রীনগরের পুরোনো শহরে কারফিউয়ের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) কাশ্মিরের বাডগাম জেলার চাদুরাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ (বুধবার) সেখানে হুররিয়াত নেতৃত্ব সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং ইয়াসিন মালিকের পক্ষ থেকে যৌথভাবে হরতালের ডাক দেয়া হয়।
হুররিয়াত নেতৃত্বের পক্ষ থেকে চাদুরার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসহ দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থাকে বিষয়টি আমলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যৌথ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তারা শহীদ হতে পছন্দ করবেন কিন্তু কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) চাদুরাতে গেরিলাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় মানুষজন পাথর ছুঁড়ে তাতে বাধা সৃষ্টি করে এবং বিক্ষোভ দেখায়। এ সময় সামরিক বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভরত স্থানীয় জাহিদ রশিদ, আমীর ফাইয়াজ এবং ইসফাক আহমেদ নামে ৩ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়। ওই ঘটনায় দীর্ঘ বন্দুক যুদ্ধ শেষে নিরপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক গেরিলাও নিহত হয়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৯