কাশ্মির সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় আলোচনার ওপর জোর দিলেন এরদোগান
-
ভারত সফরে সস্ত্রীক তুর্কি প্রেসিডেন্ট
ভারত সফররত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান কাশ্মির সমস্যা সমাধানে বহুপাক্ষিক আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এ সংক্রান্ত বিবৃতি ভারতের পক্ষে সমস্যা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ, ভারত বরাবরই মনে করে কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বড় জোর এটি দ্বিপক্ষীয় সমস্যা।
পাকিস্তান সবসময় ওই ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষকে শামিল করার চেষ্টা করলেও ভারত তাকে নাকচ করে দিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে বলেন, ‘এটা সর্বজনবিদিত যে কাশ্মির ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়।’ ভারত ওই ইস্যুটি তুর্কি কর্তৃপক্ষের সামনে উত্থাপন করবে কী না সে বিষয়ে অবশ্য তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
রোববার সন্ধ্যায় দুই দিনের ভারত সফরে আসেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। দিল্লি বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েল। তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ভারত সফরের আগে সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের স্বার্থে কাশ্মির সমস্যার সমাধান করা দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এটি রেখে যাওয়া উচিত নয় যাতে তারা হয়রানির মধ্যে না পড়ে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব জুড়ে সংলাপের পথ খুলে রাখার চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প হতে পারে না। যদি আমরা বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে ভূমিকা রাখতে পারি তাহলে আমাদের ভালো ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।’
তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটোই তুরস্কের ভালো বন্ধু এবং তারা কাশ্মির সমস্যা সমাধানের জন্য সকল পক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া মজবুত করতে সাহায্য করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, কাশ্মিরে আরো মানুষের হতাহত হতে দেয়া উচিত নয়। বহুপাক্ষিক আলোচনার মধ্যে আমরা শামিল হতে পারি। আমরা ওই ইস্যু একেবারে চিরতরে সমাধান করার চেষ্টা করতে পারি।
তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে এতে আমি খুব খুশি। কিন্তু আমি খুব দুঃখিত যে ৭০ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও দু’দেশের মধ্যে জম্মু-কাশ্মির নিয়ে বিতর্কের সমাধান হয়নি।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান বছর কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে এসেছিলেন। এবার তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারত সফর করছেন। তার সঙ্গে সিনিয়র মন্ত্রী এবং ১৫০ সদস্যের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল রয়েছেন যারা ভারত-তুরস্ক ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেবেন।
পারমাণবিক শক্তি সরবরাহকারী গোষ্ঠীতে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে তুরস্ক পাশে দাঁড়াবে বলে নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। কিন্তু জম্মু-কাশ্মির প্রসঙ্গে এরদোগানের অবস্থান ভারতের পক্ষে অস্বস্তির হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১