রাখাইন পরিস্থিতিতে দিল্লির উদ্বেগ, ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i45531-রাখাইন_পরিস্থিতিতে_দিল্লির_উদ্বেগ_ভারতকে_পাশে_চায়_বাংলাদেশ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী প্রবেশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৭ ২২:০৫ Asia/Dhaka
  • ভারতের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমারের   টুইটারে প্রকাশিত বিবৃতি
    ভারতের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমারের টুইটারে প্রকাশিত বিবৃতি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী প্রবেশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার শনিবার রাতে টুইটারে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর ঢলে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এর আগে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছিলাম। দুই দেশ এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের কঠোর অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে এবং কোনো যুক্তিতেই সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।’

ভারতের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার

রবীশ কুমার বলেন, ‘সম্প্রতি মিয়ানমার সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরপরাধ লোকজনের মৃত্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছেন। শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা দেবে ভারত।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা সংযতভাবে এবং পরিপক্বতার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনের কল্যাণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে রাখাইনের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার আহ্বান জানাই। রাজ্যটিতে সহিংসতা বন্ধ করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’

অং সান সু চি ও নরেন্দ্র মোদি

এদিকে, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল (শনিবার) ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেছেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের অন্তহীন স্রোত বাংলাদেশকে কী দুঃসহ পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে, হাইকমিশনার তা জয়শঙ্করকে জানান। বাংলাদেশ চায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত তাদের পাশে থাকুক। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যা কী বিপুল প্রভাব ফেলেছে, জয়শঙ্করকে মোয়াজ্জেম আলী তা বোঝান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান হওয়া একান্তই জরুরি। আঞ্চলিক স্বার্থেই একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রয়োজন।

নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

মিয়ানমার পুলিশ ও সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের যেভাবে রাখাইন রাজ্য থেকে উৎখাত করছে, সে বিষয়ে ভারত সরকার এখনো নীরব। সম্প্রতি সেই দেশ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিষয়ে একটি কথাও বলেননি। বরং মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে ভারত সব ধরণের সাহায্য করবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্টো রোহিঙ্গাদের পক্ষ কথিত সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা করে মিয়ানমার সরকারের পাশে দাঁড়ায় ভারত। বালি ঘোষণাপত্রেও রোহিঙ্গা সমস্যার উল্লেখ থাকায় ভারত তাতে সই করেনি।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল

ভারতে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সরকার এদেরকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা ভারতের চোখে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। আইনে যেহেতু ওরা বৈধ অভিবাসনকারী নয়, সেজন্য ওদের ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে।’ 

সরকারের এই উদ্যোগ রুখতে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থে মামলা করা হয়েছে। পাল্টা মামলা করেছেন বিজেপির সাবেক শীর্ষ কর্তা কে এনগোবিন্দ চারিয়া।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯