ভারতে রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়, অবৈধ অভিবাসী: রাজনাথ সিং
-
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের 'অবৈধ অভিবাসী' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়, তারা অবৈধ অভিবাসী।
আজ (বৃহস্পতিবার) নয়াদিল্লীতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক বৈঠকে তিনি ওই মন্তব্য করেন। রাজনাথ বলেন, ‘ভারত কোনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে না। ১৯৫১ সালে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সম্মেলনের চুক্তিপত্রে ভারত সই করেনি, সেজন্য আইন ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না।’
রাজনাথ বলেন, ‘মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে বেআইনি অভিবাসীদের শরণার্থী আখ্যা দিয়ে ভুল করা উচিত নয়। মিয়ানমার থেকে ভারতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়। উদ্বাস্তু বিবেচিত হতে গেলে এক নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু যারা পালিয়ে এসেছে, তারা কোনো প্রক্রিয়াই মানেনি।’
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে সতর্কতা
এদিকে, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ভারতে ঢুকে পড়তে না পারে সেজন্য মঙ্গলবার মিজোরামের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার লাগোয়া সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তে অসম রাইফেলসের টহলদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দফতরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য মিজোরাম পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের গোয়েন্দাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিজোরামে প্রবেশ করেনি বলেও ওই কর্মকর্তা বলেন।
রাজ্যটিতে এর আগে প্রবেশ করা ১৭০ শরণার্থী দক্ষিণাংশের গ্রামে বাস করছেন।

'রোহিঙ্গা শিশুদের ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘন'
এদিকে, ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিশু অধিকার কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নিয়ে তার বিরোধিতা করেছে।
কমিশন বলেছে, রোহিঙ্গা শিশু ও নাবালক-নাবালিকাদের জোর করে ফেরত পাঠানো মানে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য শিশু অধিকার কমিশনের আইনজীবী ও তৃণমূল এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই, ‘নাবালক বিচার আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশু বা নাবালক অনুপ্রবেশকারী এ দেশে ধরা পড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নাবালক বিচার বোর্ড ঠিক করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই।’
দেশের আইন অনুযায়ী কোনো শিশুর ছ’বছর বয়স পর্যন্ত তার সঙ্গে মাকে থাকতে দিতে হবে বলেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন।।
রাজ্য শিশু অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্রে ২৪ রোহিঙ্গা শিশু এবং সংশোধনাগারে তাদের মায়েদের সঙ্গে ২০ টি শিশু আছে এসব ছাড়াও আরও শিশু আছে। আমরা চাই না শিশু ও তাদের মায়েদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হোক। শিশুরা শিশুই হয়, তারা সন্ত্রাসীরা হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১