ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফের কঠোর নজরদারি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i47069-ভারতে_রোহিঙ্গাদের_অনুপ্রবেশ_রুখতে_বিএসএফের_কঠোর_নজরদারি
ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে ৫০টি স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ০৬, ২০১৭ ১০:৩৪ Asia/Dhaka
  • ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফের কঠোর নজরদারি

ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে ৫০টি স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিএসএফের মহাপরিদর্শক (দক্ষিণবঙ্গ) পি এস আর আনাজানেয়ুলু বলেন, ‘আগে আমরা এমন ২২টি স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছিলাম। এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। এসব এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছে বিএসএফ। কম সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে পেট্রাপোল, জয়ন্তীপুর, হরিদাসপুর, গোয়ালপাড়া ও তেঁতুলবেড়িয়া অন্যতম।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছরে তারা ১৭৫ জন রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে। এর মধ্যে চলতি বছরে সাতজন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে।

বিএসএফ এরইমধ্যে বিভিন্নস্থানে নজরদারি বাড়ানোসহ স্থানীয় সূত্রগুলোকে আরো শক্তিশালী করার কাজ চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গেও সমন্বয় রাখছে বিএসএফ।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আছে ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত অগস্ট মাসে রাজ্য সরকারগুলোকে এক নির্দেশিকায় মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়। ভারতে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে।

ওই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে রাজি নয়। তাদেরকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। 

প্রায় মাস খানেক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যকে জানাতে বলা হয়, বিভিন্ন কারাগারে কত রোহিঙ্গা আছে তা নিয়ে রিপোর্ট দিতে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনো পর্যন্ত তার কোনো জবাব দেয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলাদের এ ব্যাপারে তার অনুমতি ছাড়া কোনো রিপোর্ট না পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন।  

একটি সূত্রে প্রকাশ, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন কারাগারে ২৩০ রোহিঙ্গা বন্দি আছেন। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ২৪ রোহিঙ্গা শিশু এবং সংশোধনাগারে তাদের মায়েদের সঙ্গে ২০টি শিশু রয়েছে।

ভারতে ১ লাখ ২০ হাজার তিব্বতি, ৬০ হাজার পাখতুন, ১০ হাজার সিংহলি শরণার্থী আছেন। এসব ছাড়াও ৩০ লাখ থেকে ২ কোটি বাংলাদেশিও ভারতে ঢুকে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সংস্থার দাবি।

কেন্দ্রীয় সরকার এসব শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ না নিলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়ায় বিভিন্নমহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাফ জানিয়েছে, মানবিকতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হবে না। রাজ্যের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার মতে, রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই কেন্দ্রীয় সরকার অমানবিক পদক্ষেপে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৬