রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে জাতিসঙ্ঘের উদ্দেশ্যে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের স্মারকলিপি
-
রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের স্মারকলিপি
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপরে নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকদের দফতরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেস সচিব ইনযিমাম উল হক স্মারকলিপি সম্পর্কে এক প্রেস বিবৃতি দিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের উদ্দেশ্যে দেয়া ওই স্মারকলিপিতে ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের দফতরে ওই স্মারকলিপি তুলে দেয়া হেয়ছে।
জমিয়তের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে-
১. রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর আক্রমণের অবসান সুনিশ্চিত করে অসহায় সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পত্তি ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
২. চলমান সহিংসতার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত করতে হবে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যেসকল ছিন্নমূল পরিবার ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয় শিবিরে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা ছাড়াই বাস করছে তাদের পুনর্বাসন দিতে হবে।
৪. রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করতে হবে এবং বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে থাকা মানুষদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে যাতে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী মর্যাদাসহ অন্যান্য সুরক্ষা পায়।
৫. ভারত, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
৬. গণহত্যা বন্ধ ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসঙ্ঘকে মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করতে হবে।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ বলেছে, ৬ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রাজ্যের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব ছাড়াও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্যেও পাঠানো হয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রেস সচিব ইনযিমাম উল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, রাজ্য জমিয়তের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের ১৬ টি জেলা প্রশাসকদের দফতরে আজ ওই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানে জমিয়তের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন ও প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশে শামিল হন।
গত ৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম ৬ দিনের সফরে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও অন্যত্র আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে অসহায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ খবর নেন। জমিয়ত বলেছে, বাংলাদেশে মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদের সহযোগিতায় জমিয়তে উলামা হিন্দ সেখানে ত্রাণ বিলি করছে এবং আরো ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৪