নেতানিয়াহু'র ভারত সফর শান্তি, সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি: মুফতি আব্দুল মাতীন
https://parstoday.ir/bn/news/india-i51623-নেতানিয়াহু'র_ভারত_সফর_শান্তি_সম্প্রীতির_জন্য_বড়_হুমকি_মুফতি_আব্দুল_মাতীন
ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে দেশের শান্তি, সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন আজ (শুক্রবার) ওই মন্তব্য করেছেন।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ ১৬:৪৮ Asia/Dhaka

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে দেশের শান্তি, সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন আজ (শুক্রবার) ওই মন্তব্য করেছেন।

অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর ভারত সফর সম্পর্কে দেশের শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী ও যারা দেশ সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবনা চিন্তা করেন তারা কেউই তার সফরে সন্তুষ্ট  নন। কারণ, আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যত অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, জুলুম, অত্যাচারসহ সন্ত্রাসী হামলা ও যেকোনো ধরণের অশান্তির নেপথ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর হাত রয়েছে। তার মতো একজন অশান্তি সৃষ্টিকারী, নরখাদক, বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি এবং বলা যেতে পারে পৃথিবীর সেরা সন্ত্রাসীদের কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন। সুতরাং তার মতো একজন ব্যক্তি ভারতের মতো দেশ যেখানে ‘নানা ভাষা নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন ও মহান’। এ ধরণের ঐতিহ্যবাহী  দেশে তার সফরকে ভালো বলে আমরা মনে করি না। এদেশের শান্তি, সম্প্রতি, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দের জন্য তার সফরকে আমরা হুমকি বলে মনে করি।’ 

মুফতি আব্দুল মাতীন বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির রাজত্বে অবশ্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সফর খুব একটা বেমানান নয়। কারণ, বাংলা ভাষায় প্রবাদ আছে ‘চোরে চোরে  মাসতুতো ভাই’! ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যেরকম বিশ্বের দরবারে একজন বড় খুনি  আসামী ও সন্ত্রাসের খলনায়ক, দেশের মধ্যে তেমনি শান্তিকামী সমস্ত মানুষের কাছে নরেন্দ্র মোদির ভুমিকাও তদ্রূপ। কারণ, গুজরাট দাঙ্গা থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট থেকে নিয়ে পোস্ট অফিস, হাট-বাজার থেকে পরিবার, ধনী-দরিদ্র প্রত্যেকেই অশান্তির দাবানলে জ্বলছে।’

তিন বলেন, ‘পাকিস্তান বা চীন যাদেরকে আমরা ভারতের শত্রু বলে মনে করি তারা  সবসময় চায় ভারতের মধ্যে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকুক তাহলে তাদের লাভ হবে। আমি মনে করি ভারতের হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ঈসায়ী সকলেই যেখানে মিলেমিশে বাস করছেন সেখানে নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের বিভিন্ন সদস্য, আমলা, মন্ত্রী প্রতিনিয়ত এমন কাজ করছেন ও মন্তব্য করছেন যাতে এক সম্প্রদায়ের প্রতি আর এক সম্প্রদায়কে উসকানি দেয়া, মানুষে মানুষে হানাহানির ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া, দেশের মধ্যে সবসময় বিশৃঙ্খল পরিবেশ জিইয়ে রাখার জন্য তারা যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এতে মনে হচ্ছে চীন বা পাকিস্তানের উদ্দেশ্যকে সফল করতে সাহায্য হচ্ছে।’  

মুফতি আব্দুল মাতীন বলেন, ‘আসলে নরেন্দ্র মোদি ও নেতানিয়াহুকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলা যেতে পারে। তাদের উদ্দেশ্য একই। গান্ধীজির অহিংসা পরমধর্ম, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, মাওলানা মুহাম্মদ আলী,  মাওলানা শওকত আলী, বিনয়, বাদল, দীনেশ,  মাওলানা ফজলে হক, মাওলানা হিফজুর রহমানের মতো মানুষ নিজেদের সর্বস্ব ত্যাগ করে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু যারা আমাদের দেশকে পরাধীন করেছিল ক্রমশ তাদের সঙ্গেই নরেন্দ্র মোদিকে তাদের সঙ্গেই আমরা সৌহার্দ বজায় রাখতে দেখছি যা আমাদেরে দেশের জন্য মোটেই শুভলক্ষণ ও কল্যাণকর নয়।’  

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও নরেন্দ্র মোদি

তিনি বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে ভারতকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা উচিত। যারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের থাবা বসিয়ে চলেছে, নিরীহ মানুষদের উপরে জুলুম, অত্যাচার করে চলেছে,  যারা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার চক্রান্ত করছে তাদের সঙ্গে হাত মেলানো আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। ওই সমস্ত সন্ত্রাসী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে ভারতকে দূরে রাখা খুব ভালো।’  

মুফতি আব্দুল মাতীন বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারতে নিয়ে আসাকে কোনোভাবেই আমরা ভালো বলে মনে করি না। দেশবাসীকে আরো বেশি বেশি করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। ভারতে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ঈসায়ীর মিলন ক্ষেত্রের পবিত্রতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে একযোগে এক হয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমাদের আশঙ্কা নেতানিয়াহু ভারত সফর থেকে ফিরে যাওয়ার পর অথবা সফর চলাকালীন নতুন করে এদেশে এক  সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আর এক সম্প্রদায়ের জুলুম অত্যাচার শুরু না হয়ে যায়! কারণ তিনি কোনো দেশে শান্তির বার্তা নিয়ে যান না। তিনি যেখানেই যান অশান্তির বার্তা নিয়ে যান। সুতরাং দেশের মানুষকে শান্ত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/এআর/১৯