হুররিয়াতের সঙ্গে সংলাপে রাজি ভারত সরকার, কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীর সন্তোষ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i57964-হুররিয়াতের_সঙ্গে_সংলাপে_রাজি_ভারত_সরকার_কাশ্মিরের_মুখ্যমন্ত্রীর_সন্তোষ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদলীয় হুররিয়াত কনফারেন্সের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি একে 'সংলাপ শুরু করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ' বলে মন্তব্য করেছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মে ২৭, ২০১৮ ১১:৩৯ Asia/Dhaka
  • জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি
    জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদলীয় হুররিয়াত কনফারেন্সের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি একে 'সংলাপ শুরু করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ' বলে মন্তব্য করেছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গতকাল (শনিবার) এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে এমনকি হুররিয়াতের সঙ্গেও সংলাপে বসতে সরকার প্রস্তুত আছে বলে জানান।

তিনি বলেন, হুররিয়াত যদি সংলাপে বসতে রাজি হয় তাহলে সরকার তৈরি আছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’

রাজনাথ সিং পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও সরকার রাজি আছে বলে জানান। তিনি অবশ্য এক্ষেত্রে বলেন, পাকিস্তান যদি সংলাপের কথা বলে তাহলে আমরা বলব সন্ত্রাসবাদকে শেষ কর তাহলে আলোচনা এগোবে। কেউ  যদি কথা বলতে চায় এবং আমরা কথা না বলি তাহলে তা ঠিক হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কাশ্মিরে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা

জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি রাজনাথের মন্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে একে সংলাপ শুরু করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

কাশ্মিরে সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে সরকার নরম মনোভাব নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কী না এ প্রশ্নের জবাবে রাজনাথ বলেন, ‘যারা প্রথমবার পাথর নিক্ষেপ করেছে সরকার তাদেরকে রেহাই দিয়েছে। শিশুরা শিশুই হয়, ১২/১৫ বছরের শিশুরা সন্ত্রাসী হতে পারে না। আমি তা মানতে রাজি নই।’

হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ গিলানি

রমজান মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, ‘রমজান মাস খুব পবিত্র, সেকথা মাথায় রেখে, রমজানের সময় যাতে শান্তি বজায় থাকে, সংঘর্ষে কোনো কাশ্মিরি যাতে নিহত না হয় এজন্য অনেক চিন্তাভাবনা করে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এর আগে কাশ্মিরে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললেও হুররিয়াতসহ কাশ্মিরে আন্দোলনকারী কোনো নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসেননি। এবার রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের পরে হুররিয়াতের সঙ্গে আলোচনার পথ খুলে গেল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ছোটন দাস

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ক’দিন আগে রমজান মাসে ‘সিজফায়ার’(যুদ্ধবিরতি) দিতেও আপত্তি ছিল। আজ হঠাৎ তারা (সংলাপে) রাজি হয়েছেন, দেখা যাক, আমরা তো বরাবরই দাবি করে আসছি আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আলাপ-আলোচনার যে বিকল্প নেই, অনেক দেরিতে হলেও সরকার তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এজন্য ওই অঞ্চলের মানুষদের অদম্য সংগ্রামী মনোভাবই সরকারকে বাধ্য করেছে। আমি ‘স্যালুট’ জানাই কাশ্মিরের সংগ্রামী মানুষদের।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭