ভারতে বাসরত রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ ও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মিরসহ অন্য রাজ্যগুলোতে চিঠি দিয়ে 'অবৈধভাবে' বাস করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি তাদেরকে আধার কার্ড বা যেকোনো ধরণের পরিচয়পত্র দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র মতে, এমনটি করা হচ্ছে যাতে মিয়ানমারের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা যায় এবং ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়।
সরকারি ওই নির্দেশে প্রকাশ, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির আশঙ্কা আছে এবং তাদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। চিঠিতে রোহিঙ্গারা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মিরের স্বরাষ্ট্র সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকবার ভারতে অবৈধভাবে বাস করা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভুয়ো প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র তৈরি, মানি লন্ডারিং ও দেশবিরোধী কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এক শ্রেণির দালালচক্র রোহিঙ্গারা এদেশে ঢোকামাত্রই ভুয়ো নথিপত্র তৈরির কাজ করছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সংগঠনের কিছু এনজিও তাদের বাস করার জন্য বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করে- রোহিঙ্গারা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও উপত্যকায় না গিয়ে কেন জম্মুতে বাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো নির্দেশে রোহিঙ্গাদের উপরে রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা এজেন্সিকে কঠোরভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে। তাদের নামধাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, বাবা মায়ের নাম, কোন দেশের বাসিন্দা তা জানতে বলা হয়েছে। এছাড়া শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নেয়া উচিত যাতে পরবর্তীতে তারা পরিচয় পরিবর্তন করতে না পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব লোকের তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের কাছে শেয়ার করার মাধ্যমে যাতে তাদের নাগরিকতা নিশ্চিত হওয়া যায় ও পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে যাতে সমস্যা না হয় সেই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
শরণার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ হোক: কামরুজ্জামান
এ প্রসঙ্গে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, 'ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু যেভাবে ভারতে আশ্রয় নেয়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধর্মের শরণার্থীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, রোহিঙ্গারা কেবলমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। তাদেরকে মানবিক দৃষ্টিতে না দেখে তাদের সম্পর্কে কুৎসা রটানো হচ্ছে, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অপমানজনক বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমার দাবি, ভারতে যেসব শরণার্থী আছে যারা অসহায় অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ধর্ম, বর্ণ, মতের ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে সব দেশের সব ধর্মের, সব বর্ণের, শরণার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ, সমান ব্যবহার করা হোক।’
গতবছরে গোয়েন্দা এজেন্সি সূত্রের বরাতে ভারতের বিভিন্ন অংশে কমপক্ষে চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবৈধভাবে বাস করছে বলে অনুমান করা হয়েছে। এরমধ্যে জম্মু-কাশ্মিরে ৭ হাজার ৯৬, হায়দ্রাবাদে ৩ হাজার ৫৯, হরিয়ানার মেওয়াতে ১ হাজার ১১৪, পশ্চিম উত্তর প্রদেশে ১ হাজার ২০০, দিল্লির ওখলাতে ১ হাজার ৬১ এবং জয়পুরে চারশ’ রোহিঙ্গা বাস করছেন।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে গতবছর সেপ্টেম্বরে জারিকৃত এক নির্দেশিকাকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। শুনানির সময় ওই ইস্যুতে আদালত মানবিক দৃষ্টিতে কাজ করার জন্য বলেছিল।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪