বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূলের ভোট ব্যাংক: কোলকাতায় অমিত শাহ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i63447-বাংলাদেশি_অনুপ্রবেশকারীরাই_তৃণমূলের_ভোট_ব্যাংক_কোলকাতায়_অমিত_শাহ
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ১১, ২০১৮ ১৪:৪৩ Asia/Dhaka

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় বিজেপি’র এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে অমিত শাহ বলেন, ‘এনআরসি হল, অসমের ভেতর থেকে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সেখান থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া। আপনার বাধায় এনআরসি থামবে না। আমি মমতা দিদিকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনি কেন অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে চাচ্ছেন? এই মমতা দিদিই ২০০৫ সালে সংসদে দাঁড়িয়ে রাজ্য থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। আজ সেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে।’

অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও অমিত শাহ মন্তব্য করেন।

বিজেপির সমাবেশের একাংশ

এনআরসি ইস্যুতে হিন্দু ভোট যাতে হাতছাড়া না হয়ে যায় যা তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে সংসদে বিল আনা হয়েছে বলে অমিত শাহ জানান। কোনো শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি নেই বলেও তিনি জানান।

সমাবেশে রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক দিলিপ ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা এখানকার যুবকরা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীরা তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন। কেবলমাত্র ভোটের রাজনীতি করার জন্য বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও ভোট কম পড়ায় রোহিঙ্গাদের এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরকম একটা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বাংলায় আছি। এখানে কোনো আইন-কানুন নেই।’

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলিপ ঘোষ

দিলিপ ঘোষ বলেন, ‘এখানে কোনো কলকারখানা নেই, যেখানে রবীন্দ্র সঙ্গীত চলত, সেখানে বোমার আওয়াজ চলছে। গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হাহাকার চলছে। দুর্বৃত্তরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের গায়ে হাত দেয় না। রোজ খুন, জখম হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ‘সিমি’, জামায়াত, আল-কায়েদার উগ্রপন্থিরা ঢুকছে। আর বিহার থেকে যারা অস্ত্র তৈরি করে তারা ঢুকছে। এখান থেকে অস্ত্র ও উগ্রপন্থি গোটা ভারতে রফতানি হচ্ছে।’

দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি উগ্রপন্থিরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গায়ে হাত দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চাই, আমরা ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করতে দেবো না। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমরা একত্রিত হয়েছি।’

অন্যদিকে, বিজেপি যুবা মোর্চার সর্বভারতীয় সভানেত্রী পুনম মহাজনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে আগেই বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়েছেন। তিনিই ওই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি ‘ইউ-টার্ন দিদি’ বলেও কটাক্ষ করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১১