দাবি না মানলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলার হুমকি ত্বহা সিদ্দিকীর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে মহাসমাবেশ করেছে। আজ (বুধবার) বিভিন্ন দাবিতে কোলকাতার ওই মহাসমাবেশ থেকে ফুরফুরা শরীফ মুজাদ্দেদিয়া অনাথ ফাউন্ডেশনের প্রধান ও ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, তাঁদের দাবি না মানা হলে বিগত বাম সরকারের ন্যায় এই সরকারকেও গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলা হবে।
বিগত সাত বছর ধরে ঈদের ছুটি বাড়ানোর যে দাবি জানানো হচ্ছে তা অনুমোদন না করায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশ প্রসঙ্গে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘পুলিশ ও রাজ্য সরকার যেভাবে ওই সমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা করেছে এতে মনে হয়েছে বর্তমান সরকার ধর্মনিরপেক্ষ লাইন ছেড়ে দিয়ে তারা বিজেপি ও হিন্দুত্বের লাইনে চলতে চাচ্ছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। আজ বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী তা গ্রহণ না করে তার সচিব ওই স্মারকলিপি গ্রহণ করবেন জানতে পারায় ওই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধি, সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ, পরিদর্শনকৃত আনএডেড মাদ্রাসার অনুমোদন ও অনুদানের দাবি, ওয়াকফ বোর্ডের দুর্নীতি মুক্ত করা জবরদখলকৃত ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার ইত্যাদির দাবিতে ওই মহাসমাবেশ করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার যদি এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এক সপ্তাহ পর থেকে নতুন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।’
পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী তার ভাষণে বলেন, "নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’, ‘ইনশাআল্লাহ্’, ‘মাশআল্লাহ্’ বলে মুসলিমদের ভোট নিয়েছেন। কিন্তু মুসলিমদের ভোট নেয়ার পরে তাদের কথা আর উনি ভাবছেনই না। ‘কেয়ার’ করছেন না।"
পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ ওই সমাবেশে দেয়া ভাষণে বলেন, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’র (ওবিসি) সংরক্ষণ (কোটা) বিধি মানা হচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যে আরএসএস অস্ত্র মিছিল করলেও তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে না কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল আটকানো হচ্ছে!
ফারুক আহমেদ রাজ্যের ৩০ শতাংশ মুসলিমদের জন্য আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কমপক্ষে ১৪ জন মুসলিম প্রার্থী এবং বিধানসভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৯৫ জন মুসলিম প্রার্থী দেয়ার দাবি জানান। রাজ্যে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কমিশনার, এসপি এবং প্রশাসনিক অন্য বড় পদে মুসলিমদের বসানো হচ্ছে না বলেও ফারুক আহমেদ অভিযোগ করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩