আমরা হিন্দু বলে কি এখানে মুসলমানদের থাকতে দেবো না?: মমতা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i66215-আমরা_হিন্দু_বলে_কি_এখানে_মুসলমানদের_থাকতে_দেবো_না_মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি দিল্লির সরকারে থাকলে, জনতার সবকিছু লুট করে নেয়। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় এক সমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ২৯, ২০১৮ ১৬:০৭ Asia/Dhaka
  • বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি দিল্লির সরকারে থাকলে, জনতার সবকিছু লুট করে নেয়। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় এক সমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।

তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বিজেপি মাঝেমাঝে মাথায় ফেট্টি বেঁধে এসে এক হাতে ঝাণ্ডা ও অন্য হাতে ডাণ্ডা নিয়ে এসে গুণ্ডামি করে। এরাই আবার যখন দিল্লির সরকারে থাকে, জনতার সবকিছু লুট করে নেয়। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায় না।’  

হিন্দুত্ববাদী বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘আমি নিজেও হিন্দু কিন্তু আমি বিজেপির মতো হিন্দু নই। ভারত আমাদের মাতৃভূমি। আমরা দুর্গাপুজো, কালীপুজো করি। আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা কি আমাদের কালীপুজো, দুর্গাপুজোতে আসেন না? আমরা হিন্দু বলে কি আমাদের এখানে মুসলমানদের থাকতে দেবো না?’

মমতা বলেন, ‘বাংলায় ত্রিশ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাস করে এটা মনে রাখতে হবে। ওদের রমজানে আমরা যেমন যাই তেমন ওরা আমাদের দুর্গাপুজোতেও আসে। আমি যদি ছটপুজো উপলক্ষে গঙ্গা মায়ের পুজো করি তাহলে রমজানের রোজার উপবাসও পালন করি- এসব কিছুর পার্থক্য কোথায়? আমি সর্ব ধর্মকে সমান ভাবে পছন্দ করি।’

সমাবেশের একাংশ

তিনি বলেন, ‘সমাজ যদি টুকরো টুকরো হয়ে যায় তাহলে কি হবে? হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে, পাঞ্জাবী-ঈসায়ীদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে যাবে। ভাই ভাই ঝগড়া করবে। তাহলে কি হবে? শুধু রক্ত ঝরবে, অশ্রু ঝরবে তাছাড়া কিছু হবে না। সেজন্য জীবনে সফল হতে গেলে একতা, সম্প্রীতি, ভালোবাসা বজায় রাখতে হবে।’

মমতা বলেন, ‘আমরা সব ধর্মের উৎসব সমানভাবে পালন করি। বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের স্থল। এখানে কোনও পার্থক্য নেই।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোটা দেশের মধ্যে বাংলাই একমাত্র জায়গা যেখানে বাঙালি ও হিন্দিভাষী মানুষ একসাথে থাকে। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৯