কাশ্মিরের ঘটনাকে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা
-
নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় নিহত এক কাশ্মিরি
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাত বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু। তিনি ওই ঘটনাকে ব্রিটিশ শাসনামলে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারপতি কাটজু বলেছেন, জেনারেল রাওয়াতকে অভিনন্দন যার সেনারা কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে সাত বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যেভাবে জেনারেল ডায়ার জালিয়ানওয়ালাবাগে এবং লেফটেন্যান্ট কেলি ভিয়েতনামের মাই লাইতে করেছিলেন, সেভাবে কাশ্মিরে ভারতীয় সেনারা লোকেদের হত্যা করেছে। ভারতীয় সেনারা কত সাহসী! সমস্ত ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাদের ‘ভারত রত্ন’ (পুরস্কার) দেয়া উচিত!
কাটজুর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিভিন্নমহল থেকে সমালোচনা করা হলেও তিনি তাঁর মন্তব্যে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে নিন্দার ঘটনায় কিছু লোক আমার সমালোচনা করছেন। কিন্তু আমি প্রচার পাওয়ার জন্য এসব করছি না। আমি মনে করি যা সত্যি এবং যা দেশের স্বার্থে ভালো তা আমি বলব।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। এসময় ব্রিটিশ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে কোনোরকম হুঁশিয়ারি ছাড়াই নিরস্ত্র বেসামরিক জনতার ওপরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী নির্বিচার গুলিবর্ষণ করলে কয়েকশ’ নিরীহ মানুষ নিহত হন।
অন্যদিকে, ১৯৬৮ সালের ১৬ মার্চ দক্ষিণ ভিয়েতনামের মাই লাই গ্রামে মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম কেলি’র নির্দেশে কয়েকশ’ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইমরান খানের ফোন
এদিকে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেসকে ফোন করে কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে বিষয়টি আমলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত (রোববার) তিনি কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে সাত বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরপরেই গণমাধ্যমে ইমরান খানের ফোনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।
ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশে হস্তক্ষেপের পরিবর্তে ইসলামাবাদকে নিজেদের বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া উচিত যেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি রয়েছে।
ইমরান খান সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভারতে নির্বাচন আসন্ন। সেখানকার ক্ষমতাসীন দল মুসলিম বিরোধী এবং পাকিস্তান বিরোধী। তারা আমার সমস্ত উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আশা করি নির্বাচনের পরেই আমরা আবার ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারব।’
ভারত অবশ্য পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়েছে যে সংলাপ ও সন্ত্রাস একসাথে চলতে পারে না।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন