পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল মুখোমুখি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i67653-পশ্চিমবঙ্গের_ঠাকুরনগরে_মোদির_সফরকে_কেন্দ্র_করে_বিজেপি_তৃণমূল_মুখোমুখি
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ২৭, ২০১৯ ১৬:২৮ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আজ (রোববার) ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসেন বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়। মুকুল রায় বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী আসছেন না। মতুয়া মহাসঙ্ঘের আমন্ত্রণে তাঁদের ধর্মীয় কর্মসূচিতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, ঠাকুরবাড়িতে বিজেপি নেতা মুকুল রায় আসায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের অন্যতম উপদেষ্টা ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আজ (রোববার) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, ‘মুকুল বাবুকে প্রশ্ন রইল তিনি কেন আজ ঠাকুরবাড়িতে ঢুকলেন? তিনি কেন আরএসএসের লোকেদের নিয়ে গিয়ে ওখানে প্যারেড করালেন? এটা কি আরএসএসের জায়গা তৈরি হবে? তাহলে রক্ত দিয়ে বুক দিয়ে তা আটকাব। ওখানে জয়-শ্রীরাম করতে দেবো? বুক দিয়ে আটকাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরে ঠাকুর বাড়ির ‘বড় মা’ (বীণাপাণি ঠাকুর) এক পাও চলবেন না, সেজন্য নরেন্দ্র মোদি আসাও যা, না আসাও তাই। মোদি এলেও ‘জিরো’, না এলেও ‘জিরো’। মোদির আসা যাওয়াটাই কেবল হবে, আর কিচ্ছু কাজ হবে না।’

ঠাকুর বাড়িতে কোনও রাজনৈতিক দলের সভা করতে দেয়া যাবে না বলেও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সাফ জানান।

একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত ঠাকুরনগর সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও সংসদ সদস্যা মমতা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকমাস বাকি এতদিন বাদে ওনার ঠাকুরবাড়ির কথা মনে পড়ল? মতুয়ার এত বলদ নয় যে, তাঁর কথায় প্রভাবিত হবেন।’

মমতা দেবী অসমে এনআরসি নবায়নের নামে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদেরকে বিজেপি সরকার দুর্ভোগে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন। প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কিছুই নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটা আসলে কিছুই নয়, নির্বাচনের মুখে ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোই ওঁদের উদ্দেশ্য। নাগরিকত্ব বিল ত্রুটিপূর্ণ ও এতে অনেক অসঙ্গতি আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।  

মুকুল রায়

বিজেপি নেতা মুকুল রায় অবশ্য আজ বলেন, ‘এটা খুব পরিষ্কার কথা যে বিজেপি ভারতে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করছে। বিজেপির এটা প্রতিশ্রুতি যে, অন্য কোনও দেশ থেকে আসা ‘হিন্দু উদ্বাস্তুদের’ ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এ নিয়ে বিল এসেছে লোকসভায় ও রাজ্যসভাতেও বিল আসছে। তৃণমূলের ক্ষমতা থাকলে বিলকে লোকসভা ও রাজ্যসভায় সমর্থন করুক।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সভাকে ঘিরে আজ বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে ঠাকুরনগরের পরিবেশ কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের এক গোষ্ঠীর সমর্থনে বিজেপি ঠাকুরবাড়ির মেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সভা করতে চায়। কিন্তু তৃণমূল কোনোভাবেই সেখানে সেই সভা করতে দেয়ার পক্ষপাতি নয়। বিজেপি শেষমেশ মাঠ পরিবর্তন করার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।#    

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭ 

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন