পশ্চিমবঙ্গে মোদির সভায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, বেশ কয়েকজন আহত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ফলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ (শনিবার) ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন এক ময়দানে প্রধানমন্ত্রী মতুয়াদের সমাবেশে ভাষণ দেন। এসময় বাঁশের ব্যারিকেড টপকে মানুষজন সংরক্ষিত জায়গার মধ্যে ঢুকতে গেলে তুমুল বিশৃঙ্খলা হয়।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ থামিয়ে জনগণকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও তাতে কান দেননি সমাবেশে আসা মানুষজন। একসময় সভামঞ্চের সামনের দিকে থাকা চেয়ার ছুঁড়ে মানুষজন সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হয়ে তাঁর ভাষণ সংক্ষিপ্ত করে সভামঞ্চ ত্যাগ করেন।
রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এ সম্পর্কে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ঠাকুরবাড়িতে যা করে গেলেন তা ইতিহাস হয়ে রইল। এর পুনরাবৃত্তি কিন্তু হবে। তিন মাসের মধ্যেই মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে মহাসম্মেলনের মধ্য দিয়ে এর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। নরেন্দ্র মোদিকে আমরা জবাব দেবো।’তিনি বলেন, দেশে যা দুর্নীতি হয়েছে সেজন্য নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদিকে শ্রীঘরে থাকতে হবে। ‘নরেন্দ্র মোদি ভারতের সবচেয়ে বড় স্ক্যাম মাস্টার। তাঁকে জেলে ঢুকতেই হবে, এজন্য তিনি এখন থেকেই দিন গুণতে থাকুন’ বলেও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন।
একই বিষয়ে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও সংসদ সদস্যা মমতা ঠাকুরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওই সভায় বিজেপির লোকেদের একাংশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তারা চেয়ার ভাঙচুর, ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোনোর চেষ্টা ইত্যাদি করার ফলে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। মতুয়াদের ধর্মীয় সভায় ভাষণ দেয়ার নামে প্রধানমন্ত্রী বিজেপির হয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। সভায় আসা মানুষজন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়াতেই স্পষ্ট হয়েছে তাঁরা মতুয়াদের কেউ নন। বিজেপি যে স্লোগান দিয়ে থাকে তারা সেই স্লোগান দিয়েছে। তাছাড়া তারা কেউই মতুয়াদের ডঙ্কা, নিশান, ইত্যাদি নিয়ে আসেননি। সেখানে মতুয়াদের ঠাকুর হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে কোনো ধ্বনি দেওয়া হয়নি। মঞ্চ থেকে শুরু করে সমস্ত জায়গা ‘গেরুয়া’ রঙের কাপড় দিয়ে ছেয়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে এটা খুব স্পষ্ট যে মতুয়াদের নাম করে প্রধানমন্ত্রীর ওই সভায় বিজেপির লোকেরাই মাঠে ছিল।’
নাগরিকত্ব বিল পাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার যে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁকে কোনোভাবেই সমর্থন করা হবে না বলে সংসদ সদস্যা মমতা ঠাকুর বলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে অনেক জটিলতা রয়েছে। বিলটি পাস হলে আমাদের লোকেরাই সবচেয়ে বেশ সমস্যায় পড়বেন।’
মমতা দেবী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা বলে গেলেন তা সম্পূর্ণ একটা ভাঁওতা। এটা বিজেপির প্রচার মাত্র। এনআরসির কথাও কিছুই হয়নি। মানুষজন মনে করেছিলেন এনআরসির বিষয়ে উনি কথা বলবেন, কিন্তু সেসব কিছুই বলেননি।’
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন