পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক নিহত, বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর
-
সত্যজিৎ বিশ্বাস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের গুলিতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস (৪২) নিহত হয়েছেন। তিনি নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক ছিলেন।
গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে সরস্বতী পুজোর একটি অনুষ্ঠানে থাকার সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের বন্দুকের গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ওই বিধায়ক। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় বিজেপি নেতা মুকুল রায়সহ চার জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওই হত্যার ঘটনায় বিজেপি’র লোকজন জড়িত আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে একে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
নদিয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, ‘উনিশে ফিনিশ হয়ে যাবে বুঝে বিজেপি এখন তৃণমূলের শক্তপোক্ত নেতাদের সরিয়ে দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।’
তৃণমূলের মহাসচিব ও রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে বিজেপি যেভাবে এ ধরণের কাজ করছে, গোটা রাজ্যজুড়ে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। নদিয়ার সীমান্ত ঘিরে এসব অঞ্চলে গোলাবারুদ নিয়ে আন্দোলনের নাম করে তাঁরা খুনের রাজনীতি করছে। বিজেপির নেতৃত্বে যে নৃশংস হত্যার যে অভিযোগ ওখানকার সাধারণ মানুষ করছেন তাঁর সম্পূর্ণ তদন্ত হয়ে এর পিছনে যেসব নাটেরগুরু আছে তাঁদেরকে গ্রেফতার করে ওই পরিবারের প্রতি সুবিচার করতে হবে।’
রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘বিজেপি কোনোরকম হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে না। ওখানে মাটি মাফিয়াদের নিজেদের মধ্যে সংঘাতের বলি হয়েছেন বিধায়ক।’
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১০
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন