'বিজেপি সেনাবাহিনীকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে'
-
সরদার আমজাদ আলী
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সেনাবাহিনীকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা, সাবেক এমপি ও কোলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী। রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেনাবাহিনীর ছবি লাগিয়ে নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো ওঁরা প্রচার করছেন। সেনাবাহিনীকে ওঁরা নিজের দলের স্বার্থে ব্যবহার করছেন দেশের মানুষ তা খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন। তথ্য গোপন করে, যে তথ্য হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে আরও বেশি মর্যাদা দেয়া যায়, সেই তথ্যকে গোপন করার মধ্য দিয়ে দেশের সরকার যে মানুষকে কিছু বিষয়ে অন্ধকারে রাখতে চাচ্ছে তা খুব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।’
পাকিস্তানে সম্প্রতি ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারিভাবে সঠিক তথ্য না দেয়া এবং সেনাবাহিনীর সাফল্যকে বিজেপি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি নিজ রাজ্য গুজরাট সফরের সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য জুড়ে যে পোস্টার দেয়া হয়, তাতে বন্দুক হাতে মোদির ছবির পাশে লেখা, ‘না ঝুঁকব, না থামব। রক্ততিলক পরে গুলির আরতি করব।’
অন্যদিকে, দিল্লির বিজেপি সভাপতি মনোজ তেওয়ারি রীতিমতো সেনাবাহিনীর পোশাক পরে বাইক মিছিল করে ভোট প্রার্থনা করার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান হামলায় নিহত সন্ত্রাসীর সংখ্যা জানতে চাইলে এতে সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট হতে পারে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে যে দাবি জানানো হয়েছে সে সম্পর্কে আমজাদ আলী বলেন, ‘এর ফলে সেনাবাহিনীর মনোবল মোটেও নষ্ট হবে না। ভারতের মানুষ সেনাবাহিনীকে আশীর্বাদ করবে। মনোবল নষ্ট হওয়ার কথা ওঁরা (বিজেপি) বলতে পারে। সেনাবাহিনীকে সমর্থন করার জন্য সমস্ত বিরোধীদল একসঙ্গে বলেছে সেনাবাহিনী যা করেছে আমরা সেনার পাশে আছি। ভারত সরকারের পাশে আছি। কিন্তু ভারত সরকার ভারতের জনগণকে বলবেন না কেন যে আমাদের সেনারা এটা করতে পেরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘রয়টার’ তো পাকিস্তানের লোক নয়, হিন্দুস্তানের লোকও নয়। এসোসিয়েটেড প্রেস, নিয়ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট-এরা তো পাকিস্তানের লোক নয়, কিংবা হিন্দুস্তানের লোকও নয়। তারা বলছে যে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।’
আমজাদ আলী বলেন, ‘আমরা তো খুশি হবো, ভারতের মানুষ তারা তো নিঃসন্দেহে খুশি হবে যে আমাদের সেনারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গিয়ে আক্রমণ চালিয়ে এতগুলো সন্ত্রাসীকে হতাহত করেছে। লড়াইটা পাকিস্তানের মানুষের বিরুদ্ধে নয়, পাকিস্তানের সরকারে বিরূদ্ধেও নয়, লড়াইটা হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সুতরাং সন্ত্রাসী যদি মারা যায়, তাদের সংখ্যা জানার জন্য ভারতের মানুষ নিঃসন্দেহে উদগ্রীব হবে। এই যে সংখ্যাটা জানানোর দায়িত্ব কার? তারা এর আগে বলেছেন মাসুদ আজহারের শালাও নিহত হয়েছে। এতে খুশি হবো, ভারতের মানুষ খুশি হবে যত সংখ্যক সন্ত্রাসী মারা গেছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট করবেন কে? সেনার গর্বে যারা গর্বিত হচ্ছেন, তারা সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে প্রকাশ করছেন না কেন?’
‘ভারতের মানুষ এই সরকারের চরিত্র সম্পূর্ণভাবে বুঝেছে। দু’কোটি চাকরির গল্পও তারা শুনেছে, পনের লাখ করে টাকার গল্পও শুনেছে, নোট বাতিলের ফলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে বলা হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে তারা এতবড় সন্ত্রাসের ঘটনাও দেখছে। সুতরাং এই সরকারের প্রতিশ্রুতি ও তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে ভারতের মানুষ যথেষ্ট পরিচিত’ বলেও সরদার আমজাদ আলী মন্তব্য করেন।
এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) মধ্য প্রদেশে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘বিরোধী নেতারা পাকিস্তানের পোস্টার বয়ে পরিণত হয়েছেন। কেউ বিমান বাহিনীর অভিযানের প্রমাণ চাচ্ছেন তো কেউ মৃত সন্ত্রাসীর হিসাব চাচ্ছেন। আসলে ওঁরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের দুর্বল করে দিতে চাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে চাচ্ছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে দাঁড়ালেও দেশের কিছু মানুষের জন্যই আমরা দুর্বল হয়ে পড়ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বিরোধীজোটকে ‘মহাভেজাল ও পাকিস্তান দরদী’ মন্তব্য করে বলেন, ‘বিমান বাহিনী পাকিস্তানে বোমা ফেলেছে। এতে বিরোধী নেতারা কাতর হয়ে পড়েছেন! চোখে মুখে শোকের ছায়া! দেখলে মনে হবে, মাথায় পাহাড় ভেঙে পড়েছে বোধহয়। এত দিন দেশের মধ্যে মহাভেজালের আয়োজন চলছিল। এখন ‘আন্তর্জাতিক স্তরে’ও সেই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহাভেজালে যোগ দিয়েছেন। সেজন্য এখানে মোদিকে কুকথা বলে বেড়ান যাতে পাকিস্তানে খবরের শিরোনামে উঠে আসা যায়।’
বিজেপির জোট শরিক শিবসেনা অবশ্য বলেছে, দেশবাসীর সেনা অভিযানের ফল জানার অধিকার আছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট হয় না।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন