ভারতে লোকসভা নির্বাচনের আগেভাগে এসআইও’র ইশতেহার প্রকাশ
ভারতে আগামী লোকসভা নির্বাচনের মুখে স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন (এসআইও) পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতা প্রেস ক্লাবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।
এসআইও’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআইওর রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি বলেন, ‘ছাত্র ও তরুণরা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও ভোটদাতা। সেজন্য আগামী লোকসভা নির্বাচনে ভোট চাওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্র ও তরুণদের প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম ছাত্র ও তরুণদের কল্যাণ, উন্নতি ও নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সামনে দাবি জানানো হচ্ছে। ছাত্র ও তরুণদের ন্যায্য দাবিকে বিভেদমূলক ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি দিয়ে দমিয়ে রাখা এবং তাদেরকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
এসআইও এ ব্যাপারে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ক্ষেত্রেই মুসলিমদের জন্য দশ শতাংশ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে।
তাদের দাবি, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের জন্য মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল ফেলোশিপ এবং এসসি ও এসটিদের জন্য নির্ধারিত রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল ফেলোশিপের জন্য নতুন করে জারি করা ‘ইউজিসি’-‘নিট’ পাস বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নিয়মকানুন উচ্চশিক্ষায় ইছুক পড়ুয়াদের বঞ্চিত করছে। এই বর্ধিত নিয়ম অবিলম্বে সংশোধন করে ফেলোশিপের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কমিশন শক্তিশালী করে কার্যকারী করতে অর্থনৈতিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘু, এসসি এবং এসটিদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করতে কেন্দীয় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আইন জারি করতে হবে। আলিগড় মুসলিম বিশ্বিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ শাখার সার্বিক উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে যে, আলিগড় মুসলিম বিশ্বিদ্যালয় এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার সংখ্যালঘু মর্যাদায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

এসআইও’র দাবি, যেসব নাগরিককে সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন আটক করে রাখার পর বেকসুর মুক্তি দেয়া হয়েছে, সেই সকল নাগরিকদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ প্রকল্প তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার ওই নাগরিকদের সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নাবায়ন প্রসঙ্গে এসআইও বলেছে, অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়ন স্বচ্ছ এবং যথাযথভাবে করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় দিতে হবে। কোনো নাগরিককে শুধুমাত্র নামের পদ্ধতিগত ত্রুটি কিংবা স্থানীয় কর্মকর্তার দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেয়া চলবে না বলেও এসআইও দাবি জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৭
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন