রাফায়েল চুক্তি নিয়ে ফের শুনানিতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট, বিপাকে মোদি সরকার
-
(বামে) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (ডানে) রাফায়েল যুদ্ধবিমান
ফ্রান্স থেকে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফাঁস হয়ে যাওয়া গোপন রিপোর্টকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রামান্য নথি হিসেবে দেখতে রাজি হওয়ায় এবং এ ব্যাপারে সরকারি আপত্তি খারিজ হওয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধাক্কা খেয়েছে।
আজ (বুধবার) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রায় দেয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত বিড়ম্বনায় পড়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদল বিশেষ করে কংগ্রেসসহ অন্যরা আদালতের ওই অবস্থানে রাজনৈতিকভাবে সরকারকে চেপে ধরার সুবিধা পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে একে 'ভারতের জয়' এবং 'সত্যের জয়' বলে অভিহিত করা হয়েছে।
রাফায়েল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবিতে বিরোধীদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালতে এরআগে কেন্দ্রীয় সরকার সাফাইতে বলেছিলে, গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রতিরক্ষা নথি প্রামাণ্য হিসেবে পেশ করা যাবে না। এরফলে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট সেসময় সিবিআই তদন্তের আবেদন নাকচ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছিল।
কিন্তু ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, যে নথি এরইমধ্যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তাকে নিয়ে গোপনীয়তার যুক্তি খাটে না।
সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা বলেছেন, ‘মোদিজি চিন্তা করবেন না। আপনার পছন্দ হোক বা না হোক, এবার তদন্ত হতে চলেছে।’
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘মোদিজি সব জায়গায় বলে বেড়াচ্ছিলেন সুপ্রিম কোর্টে রাফায়েল ইস্যুতে ক্লিনচিট পাওয়া গেছে। আজ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রমাণ হয়ে গেছে মোদিজি রাফায়েলে চুরি করেছেন। দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং নিজের অপরাধ চাপা দিতে সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করেছেন।’
উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রাফায়েল নিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বড়সড় দুর্নীতি চাপা দেয়ার মোদি সরকারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ সংসদের ভেতরে ও বাইরে বার বার মিথ্যা বলে দেশকে বিভ্রান্ত করার জন্য মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিলেন মায়াবতী।#
পার্সটুডে/এমএএই্চ/এআর/১০