বিজেপি সন্ত্রাসবাদী দল, ওদের নিষিদ্ধ করা উচিত: ফিরহাদ হাকিম
-
কোলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সীমান্ত শহর বনগাঁয় রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ও কোলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিজেপিকে হটানোর লক্ষ্যে রাজ্যে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) বনগাঁর জ্ঞান বিকাশিনী সঙ্ঘের ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন বিজেপি-আরএসএসের পাশপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও অন্য নেতাদের তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হন। অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি বিজেপিকে তুলোধোনা করেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন বিজেপি হিন্দুবাদী দল কিন্তু আমি বলি এটা মানুষ বিরোধীদল। হিন্দুদের যদি ওরা ভালো করতে চাইত তাহলে কখনও ভারতকে ভাগের কথা বলত না। জানেন আরএসএস কি করেছে? যে সময় মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, মুসলিমের মসজিদে শুয়োরের মাংস এবং মন্দিরে গিয়ে গরুর মাংস ফেলে দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়েছিল। ভারত ভাগের দায়িত্ব আরএসএসের। আরএসএস সেখানেই থেমে থাকেনি। গান্ধীজিকে হত্যা করেছে। সেজন্য আজ আরএসএস-বিজেপি আর কিছু নয় একটা সন্ত্রাসবাদী দল। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, হাফিজ সাঈদকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ বলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী করে মোদি তোমার কী হবে? তুমিও তো টেররিস্টের কথা বলছ। আজকে সাধ্বী প্রজ্ঞা যিনি মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত তাকে তুমি দলে নিয়েছ। অর্থাৎ যেখানে সন্ত্রাসবাদী থাকে তাকে সন্ত্রাসবাদী দল বলে। জৈশ-ই-মুহাম্মদে সন্ত্রাসবাদী থাকলে সেটা সন্ত্রাসবাদী দল। তোমরা সন্ত্রাসে মদদ করেছ, তাই তোমাদের দলটা সন্ত্রাসবাদী দল। বিজেপিকে নিষিদ্ধ করা উচিত।’
ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমরা হিন্দু ধর্ম ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের কাছে শিখব, বিবেকানন্দের কথায় শিখব, না ওই মোটা অমিত শাহের কাছে শিখব? আজকে নির্বাচন আসায় জয় শ্রীরামের কথা মনে পড়ে গেছে। ভগবান রামচন্দ্র কে ছিলেন? তিনি পরমপুরুষ ছিলেন। তাঁর অর্ধাঙ্গিনী সীতাকে যখন রাবণ হরণ করেছিল তাঁর জন্য কী করেছিলেন? সেই সীতাকে আনার জন্য তিনি লঙ্কায় যুদ্ধ করে তাকে ছারখার করেছিলেন, রাবণ বধ করেছিলেন নিজের স্ত্রীকে সম্মান দেওয়ার জন্য। নিজের স্ত্রীকে অধিকার দেওয়ার জন্য।’
এরপরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে ত্যাগ করার বিষয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আজ যিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় রামভক্ত বলেন তাঁর নিজের সীতাকে তিনি ত্যাগ করেছেন! এটাই রাম ভক্তি তোমার? রামের কাছে শেখোনি যে নারীর সম্মান কোথায়? রামের কাছে শেখোনি যে বউয়ের সম্মান সব থেকে আগে দিতে হয়। সেটা শেখায় সেই সীতা আজও কাঁদছে ঘরের কোনায় বসে। আর উনি দশ লক্ষ টাকার স্যুট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! আর মিথ্যে কথা বলে বেড়াচ্ছেন। ওনাকে আমি নাম ধরে ডাকি না। কারণ নরেন কে? তিনি তো আমাদের স্বামী বিবেকানন্দ। ওনাকে আমি ‘ঢপবাজ মোদি’ বলে ডাকি। তার কারণ সারা জীবন উনি ঢপ দিয়ে গেছেন। আচ্ছে দিন আনার কথা বলে, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পনের লাখ টাকা করে দেয়ার কথা বলে, বছরে দুই কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘নিজেকে যে ঈমানদার বলে সে ঈমানদার নয়। লোকে যাকে ঈমানদার বলে ঈমানদার সে হয়। বাংলায় ‘চৌকিদার’ নিয়ে বাজে অভিজ্ঞতা আছে। যখনই চৌকিদার শুনি মনে হয় ধনঞ্জয় চক্রবর্তীর মতো চৌকিদার নয় তো! হেতাল পারেখকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল চৌকিদার। তাঁর ফাঁসির সাজা হয়েছিল। সেরকম চৌকিদার আবার আসছে নাতো? আমারও ভয় লাগে আমার তিনটে মেয়ে আছে। দুটোকে আজ সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বাবা হিসেবে ভয় লাগে। এ কেমন চৌকিদার? ধনঞ্জয়ের মত চৌকিদার নয়তো! তারপরে ওরা চৌকিদারের নাম শুনতেই ‘চোর হ্যায়’ বলে। তখন থেকে বুঝে গেছি মানুষ বুঝেছে আর ওই চৌকিদারি চলবে না।’
ফিরহাদ হাকিম উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরে প্রথম বিধানসভা আপনাদের, এখান থেকে প্রথমে যে সূর্য ওঠে আমরা ওই দিকে দেখি, আপনাদের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। কোলকাতার মানুষ এখানকার প্রার্থী মমতা ঠাকুরকে বিপুল ভোটে জয়ী করিয়ে আপনারা বলুন মমতা তুমি এগিয়ে চলো আমরা তোমার সাথে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের ঘরের মেয়ে সেজন্য আজ ‘অসুর বধে’র সময় দেবতারা একটা একটা করে অস্ত্র দিয়েছিল দেবী দুর্গার হাতে। সেই অস্ত্র দিয়ে দুর্গা অসুর বধ করেছিলেন। আজও একটা ‘অশুভ অসুর ভারতে রয়েছে’, রাজনৈতিক ভাবে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তাকে বধ করতে হবে। সেজন্য আপনারা নিজেদের অস্ত্র দিন। আপনাদের অস্ত্রের নাম মমতা ঠাকুর। তাকে দিয়ে বলুন মমতা তুমি ‘অসুর বধ করো’, ভারতের অসুর বধ করো, আমরা তোমার সাথে আছি। আমরা তোমার সাথে আছি।’
ফিরহাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলেন, উনি কেবল একজন নারী নন। তাঁর সঙ্গে আট কোটি বাংলার জনতা রয়েছেন। কেউ তাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলে ছারখার হয়ে যাবে। উনি কেবল এক নারী নন। আট কোটি জনতার প্রতিনিধি, হৃদয়ের স্পন্দন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হৃদয়ে থাকেন বলেও জনাব ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২