মধ্য প্রদেশে গোমাংস রাখার অভিযোগে নারীসহ ৩ মুসলিমকে বেধড়ক মারধর
-
মাটিতে ফেলে মুসলিম যুবককে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের প্রহার
ভারতের মধ্য প্রদেশে গোমাংস রাখার অভিযোগে গোরক্ষকরা এক নারীসহ তিন মুসলিমকে বেধড়ক মারধর করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ, হামলাকারী স্বঘোষিত গোরক্ষকরা দুই মুসলিম যুবককে পরপর গাছে বেঁধে এবং মাটিতে ফেলে মোটা লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করে। এসময় এক নারীকেও জুতো দিয়ে পেটানোসহ তাকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্ত মুসলিমদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় ও কথিত গো-রক্ষকরূপী দুর্বৃত্তরা।
আজ (শনিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, দিনদুয়েক আগে একটি অটো গাড়িতে গো-মাংস পাওয়ার অভিযোগে কথিত গোরক্ষকরা তিনজনকে জিম্মি করে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এবং তাদেরকে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয়। আক্রান্তরা এ সময় চিৎকার করে তাদের প্রতি দয়া করার আবেদন জানালেও নিষ্ঠুর ওই দুর্বৃত্তরা তাতে সাড়া দেয়নি। তারা পশুর মতো নির্মমভাবে তাদেরকে লাঠিপেটা করে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে প্রকাশ দু’জন স্বঘোষিত গোরক্ষক এক যুবককে গাছের সঙ্গে হাত জাপটে ধরে রেখেছে অন্য এক হামলাকারী মোটা লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে একনাগাড়ে লাঠিপেটা করছে। পরে অন্য একজনকেও একইভাবে বেধড়ক মারধর করে। এরপরে তাদেরকে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে আধমরা করা হয়। এসময় তাদেরকে অকথ্য গালি দেয়ার পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়।
পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি, জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪