তৃণমূলের হাতে থাকা ভাটপাড়া পৌরসভা দখল করল বিজেপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের হাতে থাকা ভাটপাড়া পৌরসভা দখল করেছে বিজেপি। আজ (মঙ্গলবার) বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দিয়ে সরকারিভাবে বোর্ডের দখল নেয় বিজেপি। পৌরপ্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়া অর্জুন সিংয়ের ভাইপো সৌরভ সিং।
লোকসভা নির্বাচনের আগে অর্জুন সিং ওই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তার অনুগামী কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ দেয়ায় তৃণমূল এখানে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। অর্জুন সিং যেসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সেসময় তার সঙ্গে তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলরও বিজেপিতে যোগ দেন। অর্জুন সিংয়ের অনুগামীরা এসময় তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে গত ৮ এপ্রিল হওয়া আস্থাভোটে ২২/১১ মার্জিনে পরাজিত হন অর্জুন সিং। পরে অর্জুন সিং বিজেপির টিকিটে ব্যারাকপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হন এবং ভাটপাড়া বিধানসভা ক্ষেত্রে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন অর্জুন পুত্র পবন সিং। এরপরেই গোটা ভাটপাড়া এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়।
ভাটপাড়া পৌরসভায় ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে অর্জুন সিং চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করায় সেই জায়গাটি শূন্য হয়েছে। এছাড়া একজন সিপিএমের কাউন্সিলর আছেন। বাকি ৩২ জনের মধ্যে মঙ্গলবার অনাস্থা ভোটে ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন। এদেরমধ্যে ২৬ জনই তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ডের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এরফলে এই প্রথম উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কোনো পৌরসভার দখল নিল গেরুয়া শিবির। বিজেপি এবার নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া ও হালিশহর পৌরসভার দখল নেয়ার চেষ্টা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এসব জায়গার অনেক কাউন্সিলর সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেয়ায় তৃণমূল কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।
তৃণমূল কাউন্সিলর ও অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান সোমনাথ তালুকদার দলের পরাজয়ের জন্য নৈহাটির তৃণমূল বিধাক পার্থ ভৌমিককে দায়ী করেছেন। যদিও পার্থ বাবু ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, নবনির্বাচিত বিজেপির পৌরপ্রধান সৌরভ সিংয়ের দাবি, ‘কাউন্সিলররা তৃণমূলের উপর আস্থা হারিয়েছেন। এলাকার মানুষ লোকসভা এবং বিধানসভায় তৃণমূলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। সেই জনমতকেই সম্মান জানিয়ে কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।’
এদিকে বিজেপির আশঙ্কা, বিজেপিকে রুখতে ভাটপাড়া পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪