বসিরহাটে বনধ ও পশ্চিমবঙ্গে কালো দিবস পালনের ডাক বিজেপির
-
বসিরহাট বিজেপি কর্মী খুন এবং অপহরণের প্রতিবাদে ধিক্কার কর্মসূচি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের সন্দেশখালি এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে দলীয় সমর্থকরা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল (সোমবার) বসিরহাটে বনধ পালন ও রাজ্যজুড়ে ‘কালো দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছে বিজেপি। গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিসবা স্থগিত রাখা হয়েছে। বসিরহাটের নবনির্বাচিত তৃণমূল এমপি নুসরত জাহান সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ (রোববার) সন্দেশখালির মিনাখাঁ এলাকা থেকে নিহত দুই বিজেপি কর্মীর লাশ কোলকাতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। আজ বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের রক্তের রাজনীতির বিরুদ্ধে, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আগামীকাল (সোমবার) বসিরহাটে ১২ ঘণ্টার বনধ ও সারা রাজ্য জুড়ে 'কালা দিবস' পালন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
এদিকে সন্দেশখালির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে আজ এ সংক্রান্ত একটি ‘অ্যাডভাইজারি’ পৌঁছেছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, গোলযোগপূর্ণ এলাকায় আইনশৃ্ঙ্খলার রক্ষার দায়িত্বে থাকা যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা ঠিকমত কাজ করেননি, তাদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া হোক। সীমান্তবর্তী ওই এলাকা যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা করুক রাজ্য প্রশাসন।
এ সম্পর্কে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, যারা এমন পরামর্শ দিচ্ছে, তাদের নিজেদের দলের লোকজনই ওই এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এবং এনিয়ে অর্থহীন রাজনীতি হচ্ছে বলেও তার অভিযোগ।
সন্দেশখালিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে গতকাল (শনিবার) কমপক্ষে চার জন নিহত ও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। তৃণমূল তাদের একজন কর্মীকে বিজেপি সমর্থকরা গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, তাদের তিন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে আজ বিজেপি সমর্থকরা বিভিন্নস্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আজ বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিজেপি এখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। এটা কোনও দিন কেউ সমর্থন করতে পারে না। ওরা অরাজকতা সৃষ্টি করছে। ওরা সংখ্যালঘু এলাকায় গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় শ্রীরাম’ করে প্ররোচনা দেয়ার চেষ্টা করছে এটা অন্যায় হচ্ছে। এটা উসকানি হচ্ছে, এটা পাপ হচ্ছে। এটা কোনও দায়িত্ববান রাজনীতি নয়, যারা দিল্লি চালাচ্ছেন এটা তাদের কাজ হতে পারে না।’
বিজেপি মানুষকে উসকানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করছে সেজন্য পশ্চিমবঙ্গে যদি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে বিজেপিকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলেও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯