কোলকাতায় ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে না চাওয়ায় শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i71553-কোলকাতায়_জয়_শ্রীরাম’_বলতে_না_চাওয়ায়_শিক্ষককে_মারধরের_প্রতিবাদে_বিক্ষোভ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ট্রেনের মধ্যে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে না চাওয়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকসহ কয়েকজনকে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার শিয়ালদহে ওই বিক্ষোভ হয়। এদিন পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ড. ইমানুল হকের উদ্যোগে ৮ সংগঠনের পক্ষ থেকে শিয়ালদহ জিআরপিতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।  
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২৭, ২০১৯ ১৭:৩২ Asia/Dhaka
  • কোলকাতায় ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে না চাওয়ায় শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ট্রেনের মধ্যে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে না চাওয়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকসহ কয়েকজনকে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার শিয়ালদহে ওই বিক্ষোভ হয়। এদিন পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ড. ইমানুল হকের উদ্যোগে ৮ সংগঠনের পক্ষ থেকে শিয়ালদহ জিআরপিতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।  

এর আগে তাঁরা ‘ট্রেনে জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে ট্রেন যাত্রীদের উপরে আক্রমণকারীদের গ্রেফতার করতে হবে’, ‘আই অ্যাম এ হিন্দু, আই হেট হিন্দু তালিবান’, ‘ডোন্ট কিল’ ইত্যাদি লেখা পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ভারত এক ধর্মনিরপেক্ষ ও মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। পরধর্ম সহিষ্ণুতা আমাদের ঐতিহ্য। গত ২০ জুন এক ভাষা শিক্ষকসহ চারজনকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর চেষ্টাসহ মারধর করা হয়েছে। পার্ক সার্কাস ষ্টেশনে তাদেরকে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। সেজন্য অবিলম্বে পুলিশকে পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ড. ইমানুল হক এ ব্যাপারে রেডিও তেহরানকে বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ক্যানিং লোকালে জোরকরে ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান বলানো ও মারধরে অভিযুক্ত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, লোকাল ও দ্রুত গতির সব ট্রেনে পুলিশ কর্মকর্তার ফোন নম্বর দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া, টোল ফ্রি ফোন নম্বর চালু করা এবং তা বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’ স্মারকলিপির জবাবে শিয়ালদহ জিআরপি কর্তৃপক্ষ ক্যানিং লোকালে যাত্রী নিগ্রহের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছেন বলেও ড. ইমানুল হক মন্তব্য করেন।

গত ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ মুহাম্মদ শাহরুখ হালদার (২৬) যখন ট্রেনে করে ক্যানিং থেকে হুগলি যাচ্ছিলেন তখনই তাকে জোরকরে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর চেষ্টা হয়। ওই শিক্ষক তা না বলতে চাইলে তাকে একদল উগ্র ধর্মান্ধজনতা মারধর করে ট্রেন থেকে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।

রেলের এক কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, ওই শিক্ষক তাদেরকে জানান একদল লোক তার কাছে এসে তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বলেন। কিন্তু তিনি তা বলতে না চাইলে ওই লোকগুলো তাঁকে মারধর করে এবং পার্ক সার্কাসের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরফলে তাঁর চোখ ও হাতে আঘাত লাগে। আক্রান্ত শিক্ষক এ ব্যাপারে বালিগঞ্জ জিআরপিএসে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্নমহল থেকে তীব্র নিন্দা ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।