'বাংলা' হলো না পশ্চিমবঙ্গ: প্রতিবাদে সোচ্চার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i71696-'বাংলা'_হলো_না_পশ্চিমবঙ্গ_প্রতিবাদে_সোচ্চার_রাজনৈতিক_নেতৃবৃন্দ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম পাল্টে ‘বাংলা’ করার পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার সায় দেয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকার তার সাফাইতে বলেছে, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্তু সংসদে এ সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। সেজন্য আপাতত পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০১৯ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka
  • 'বাংলা' হলো না পশ্চিমবঙ্গ: প্রতিবাদে সোচ্চার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম পাল্টে ‘বাংলা’ করার পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার সায় দেয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকার তার সাফাইতে বলেছে, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্তু সংসদে এ সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। সেজন্য আপাতত পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আব্দুল মান্নান এই বিষয়ে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কোনও রাজনৈতিক দলকে দেখতে পারে না বলে বাংলার মানুষ তাদের চক্ষুশূল হয়ে গেছে যা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়! এর আগে তারা বামপন্থিদের দেখতে পারতেন না। এখনও তারা তৃণমূল কংগ্রেসকে দেখতে পারেন না। রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আসলে হচ্ছে বাংলার মানুষের প্রতি বিরূপ মনোভাবের জন্য বাংলার বিধানসভায় কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া হলে সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকার গড়িমসি করে ঝুলিয়ে রাখে। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই আচরণকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলা’ নামে আগেও কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি করেছে, আবারও আপত্তি করল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কথা হয়ে গেছে এবার আপত্তি করবে না। কার সঙ্গে উনি কথা বলেছিলেন, কী হল আমি বলতে পারব না।’

তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যের বিষয়! এলাহাবাদের নাম প্রয়াগরাজ হতে পারে, অন্যান্য রাজ্যের রেল স্টেশনের নাম বদলে যেতে পারে। শহরের নাম বদলে যেতে পারে। আর ‘বাংলা’, এটা তো বাংলার মানুষের অনুভূতির ব্যাপার। এটার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইস্যু মিশিয়ে দেয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। আর ‘পূর্ববাংলা’ বলে তো কিছু ছিল না। ‘পূর্বপাকিস্তান’ ছিল। সেজন্য পশ্চিমবাংলা বা ওয়েস্ট বেঙ্গল, এটার সঙ্গে ওই ইস্যুটা মেলালে তো চলবে না। সর্বসম্মতভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বার বার ওই নামের স্বীকৃতি দিতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কেন্দ্রীয় সরকার একটা অদ্ভুত মনোভাব নিয়ে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে, ‘বাংলা’ নামকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বাংলার মানুষ এটা দেখছেন, এটা বুঝতে পারছেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী।’

পশ্চিমবঙ্গ নামের জন্য সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একাধিক জায়গায় সমস্যায় পড়তে হয়ে বাংলাকে। রাজ্যের নাম ইংরেজিতে নাম 'ওয়েস্ট বেঙ্গল'-এর আদ্যক্ষর ‘W’ দিয়ে শুরু হওয়ায় সব প্রকল্পেই শেষের সারিতে থাকতে হয় বাংলাকে। সেজন্য নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’  করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে  রাজ্য বিধানসভায় এ ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে বিল পাসের পরে তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যদিও এনিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনও পদক্ষেপ না নেয়ায় রাজ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। #

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩