'কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাডভাইসরি নোট পাঠানোর ঔদ্ধত্য মেনে নেয়া হবে না'
-
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত দশ দিনে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে ১০টি অ্যাডভাইসরি পাঠানোয় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরফলে সংসদীয় গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না এবং তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলে আজ (সোমবার) সংসদে সুদীপ বাবু সোচ্চার হন।
তিনি এ ব্যাপারে লোকসভার স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন বারবার এভাবে আমাদের রাজ্যকে টার্গেট করা হচ্ছে? আমরা এসব বরদাস্ত করব না। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এইভাবে একই প্রশ্ন বারবার করার অনুমতি দেওয়া যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।’ রাজ্যকে বারবার অ্যাডভাইসরি পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের লজ্জিত হয় উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জুলাইয়ের প্রথম দশ দিনে দশটা অ্যাডভাইসরি পাঠানো হয়েছে। ওদের এত আস্পর্ধা বাংলাকে অপদস্থ করে কোনওক্রমে মুখে একবার (বিজেপি নেতারা) আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বলে দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিফ সেক্রেটারিকে উদ্দেশ্য করে একজন আন্ডারসেক্রেটারি সই করে পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং বলে দিচ্ছে রিটার্ন ইমেইলে সেই প্রশ্নের জবাব দাও। সুতরাং এই ঔদ্ধত্য কখনওই মেনে নেয়া হবে না। আমরা সচেতন আছি। হাউসের মধ্যেও যেমন বলেছি, মাননীয় স্পিকারকে আলাদাভাবেও বলে আসা হয়েছে ভবিষ্যতে কোন প্রশ্ন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আসবে তা স্পিকার যেন নিজে একবার যেন যাচাই করে নেন। উনি সম্মত হয়েছেন।'
পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নিয়ে বিজেপি এমপিরা সংসদে বার বার সোচ্চার হওয়ায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে আজ বিজেপি এমপি লকেট চ্যাটার্জি বলেন, ‘কেবলমাত্র ভোটের জন্য একের পর এক মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে যদি রাজ্য সরকার পদক্ষেপ না নেয় তাহলে কোথায় জানানো হবে? রাজ্যের অভিভাবক তো মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যদি তার নিজের মানুষদেরকে না দেখেন তখন তো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আসতে হবেই। সোচ্চার হতেই হবে। কারণ রাজ্য তো দেশের ভিতরেই। রাজ্যটা তো দেশের বাইরে নয়। সুতরাং, রাজ্য যদি সেভাবে সক্রিয় না হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে এমনিতেই অটোমেটিকালি আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাবো। কেন্দ্রীয় সরকার অন্তত বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াক এটাই আমরা চাই।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৫