দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার করা হবে: অমিত শাহ
-
অমিত শাহ
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে। তিনি আজ (বুধবার) সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় অসমসহ দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
অমিত শাহ জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটা অসম চুক্তির অংশ। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণেও এনআরসির উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশপাশি ক্ষমতাসীন দল যে ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে এসেছে তাতেও বিষয়টির কথা বলা হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যেসব অবৈধ অভিবাসী ও অনুপ্রবেশকারী বাস করছে আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদেরকে বহিষ্কার করব। সমাজবাদী পার্টির জাভেদ আলী এমপি এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, যেভাবে অসমে এনআরসি কার্যকর করা হচ্ছে দেশের অন্য রাজ্যেও তা কার্যকর করা হবে কি না? জবাবে অমিত শাহ ওই মন্তব্য করেন।
এর আগে অগপ এমপি বীরেন্দ্র প্রসাদ বৈশ্যের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, সরকার অসমে এনআরসি কার্যকর করতে দায়বদ্ধ। এর পাশাপাশি সরকার এটাও নিশ্চিত করবে যে এনআরসিতে যাতে কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ না যায় এবং কোনও অবৈধ অভিবাসী যেন সেখানে স্থান না পায়। এনআরসি কার্যকর করার জন্য সরকারের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ স্পষ্ট বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন।
এ প্রসঙ্গে অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে আজ যে কথা উনি বলছেন, আমরা জমিয়ত হিসেবে তা স্বাধীনতার পর থেকেই বলছি যখনই অসমে বিদেশির কথা এসেছে। আমরা তখন থেকে বলে আসছি এখানে কোনও বিদেশি থাকার পক্ষপাতী আমরা করি না। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের যদি সহযোগিতা চায় সমস্তরকমভাবে আমরা বিদেশি বিতাড়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন, সরকারসহ সবাইকে সহযোগিতা করতে রাজি আছি। কথামাত্র এটাই যে বিদেশির নামে কোনও স্বদেশীকে যেন হেনস্থা না করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় উচ্চতম ন্যায়ালয়ের মাধ্যমে হচ্ছে বলে আমরা আশাবাদী যে ভালো এনআরসি হবে। কিন্তু তার মধ্যে মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে সেসব দেখে সংশয় হয়। সেজন্য আমরা সব সময় বলে আসছি বিদেশিকে বিতাড়ন করা হোক, স্বদেশীকে সম্মানের সঙ্গে দেশে থাকতে দেয়া হোক এবং উভয় কাজটা আইনের মধ্য দিয়ে হোক। উনি (অমিত শাহ) যেকথা বলছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা শুধু বলব যে কথা আর কাজের মধ্যে যেন মিল থাকে।’
মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি এ প্রসঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৭