‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে উপহাস’
https://parstoday.ir/bn/news/india-i72867-জম্মু_কাশ্মীরের_বিশেষ_মর্যাদা_প্রত্যাহারের_সিদ্ধান্ত_গণতন্ত্রকে_উপহাস’
জম্মু-কাশ্মীর থেকে সেরাজ্যের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রকে উপহাস বলে মন্তব্য করেছেন ২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রীয় প্রদেশে বিভক্ত করার তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা করে এক বিবৃতিতে সই করেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ১৭, ২০১৯ ০৭:৫৮ Asia/Dhaka
  • ‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে উপহাস’

জম্মু-কাশ্মীর থেকে সেরাজ্যের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রকে উপহাস বলে মন্তব্য করেছেন ২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রীয় প্রদেশে বিভক্ত করার তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা করে এক বিবৃতিতে সই করেছেন।

গতকাল (শুক্রবার) এক লিখিত বিবৃতিতে অমিতাভ ঘোষ, অমিত চৌধুরী, পেরুমল মুরুগান, টি এম কৃষ্ণন, পি সাইনাথের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ও তাকে দু’ভাগ করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তটি গণতন্ত্রকে উপহাস করছে। ১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে সংযুক্তকরণের সময়ে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাও ভাঙা হল এর মধ্য দিয়ে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বিদ্বজ্জনদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কাশ্মীরে এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কোনো ধর্ম, বর্ণের মানুষের পরামর্শ নেয়া হয়নি। অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজনের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়নি। বরং নিরাপত্তার কড়াকড়ি চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় সরকার ভিন্নমতকেই ভয় পায়।’

বিশিষ্টজনদের দাবি, কাশ্মীরে গণতন্ত্র ফেরতে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সমস্ত সমস্ত বিষয় সরকার প্রত্যাহার করুক। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. সাইফুল্লাহ আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমার মনে হয় যে কথা বুদ্ধিজীবীরা বলছেন তা একশ’ শতাংশ ঠিক। ভারত আদৌ কী এটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করেছে? আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি এটা যদি করতেও হতো, যে পদ্ধতিতে তা করা দরকার সেই পদ্ধতি মেনে করা হয়নি। সেদিন যখন আমরা এটাকে মেনে নিয়েই ওই ধারাটাকে (৩৭০) রেখেছিলাম সেখানে আমি যতদূর জানি এরকম কোনও কথা বলা ছিল না যে ইচ্ছা করলেই এটা বাতিল করা যায়। যদি বাতিল করার পদ্ধতি থেকে থাকে তাহলে সেই পদ্ধতি অনুযায়ী তা করা উচিত ছিল। বুদ্ধিজীবীরা যে কথা বলছেন, যে দাবি করছেন ঠিকই কিন্তু আমার মনে হয় তা মানার মতো অবস্থায় বর্তমান সরকার নেই, কেননা তারা এত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জায়গায় রয়েছে যে অন্য মতকে উপেক্ষা করা তাদের পক্ষে খুবই সহজ। তবে এটা আমরা বারবার করে মনে করছি যে, একটা জাতি, জাতিসত্তাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা কতখানি আগামীদিনে একটা দেশের সুরক্ষার জন্য, একটা দেশের শ্রীবৃদ্ধির জন্য সুবিধাজনক হবে সেটা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। আমরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

‘যদি কোনও সংগঠন বা বুদ্ধিজীবী সমাজ এটা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় আমি তার সঙ্গে সহমত পোষণ করছি এবং আমার পক্ষ থেকেও সেই দাবি থাকবে যে গোটা ব্যাপারটা পুনর্বিবেচনা করে দেখা হোক’ বলেও অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ মন্তব্য করেন।#

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৭