শ্রীনগরে বিদ্যালয় খুললেও ছাত্র নেই, কাশ্মীরে বিধিনিষেধ চলছেই
-
শ্রীনগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বন্ধ হয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় অবশেষে খুলেছে। গত প্রায় ১৪ দিন বাদে আজ (সোমবার) শ্রীনগরে ৯০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়।
‘নবভারত টাইমস’ জানিয়েছে, আজ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা গেলেও সেখানে বেশি ছাত্র দেখা যায়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানকার সমস্ত বেসরকারি স্কুল পনের দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
ফারুক আহমেদ দার নামে এক অভিভাবক বলেন, পরিস্থিতি এতটাই অনিশ্চিত যে, এই মুহূর্তে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রশ্নই নেই।
শ্রীনগরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, শহরতলির কয়েকটি বিদ্যালয় খোলা আছে কিন্তু গত দু’দিন ধরে হওয়া সহিংসতার জন্য পুরোনো শহর ও সিভিল লাইন্স এলাকায় বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।
উচ্চবিদ্যালয় চালু হওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরে এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
শ্রীনগরের জেলা প্রশাসক শাহিদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যালয় খোলার ব্যবস্থা করেছি। মা-বাবাদের প্রতি আবেদন করেছি যেখানে বিদ্যালয়গুলো আবার খোলা হয়েছে সেখানেই ছেলে-মেয়েদের পড়তে পাঠান তাঁরা। নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।’

শ্রীনগরে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা
এদিকে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেনাসহ অন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কাশ্মীর উপত্যকায় ৫০ পুলিশ থানা এলাকায় গতকাল (রোববার) নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। যদিও শ্রীনগরে বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতার ফলে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
জম্মু এলাকায় পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট পরিসেবা বহাল করার একদিন বাদেই পুনরায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে উগ্রহিন্দুত্ববাদী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল একটি বাইক মিছিল বের করলে শান্তি বজায় রাখতে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
হাজিদের বিশেষ নিরাপত্তা

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সেরাজ্যে হজযাত্রীরা ঘরে ফেরা শুরু করেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরব থেকে ৩০০ হজযাত্রীর প্রথম দল কাশ্মীরে ফিরেছেন। তাঁদেরকে নেয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মাত্র একজনকে অনুমতি দেয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা কবলিত এলাকা দিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এজন্য বিশেষ পাস-এর ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশে ফেরা হাজীদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দরে হাজীদের স্বাগত জানান জম্মু-কাশ্মীরের গভর্নরের পরামর্শদাতা ফারুক খান।
গ্রেফতার ৪০০০
অন্যদিকে, এই প্রথম সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে জন নিরাপত্তা আইনে (পিএসএ) এ পর্যন্ত ৪ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপত্যকার কারাগারগুলোতে আর জায়গা না থাকায় তাদের অনেককেই বিশেষ বিমানে করে কাশ্মীরের বাইরের রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।