'হিন্দু উদ্বাস্তুদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বিজেপি, ওদের টার্গেট মুসলিম-দলিত'
https://parstoday.ir/bn/news/india-i73513-'হিন্দু_উদ্বাস্তুদের_দেয়া_প্রতিশ্রুতি_রক্ষা_করেনি_বিজেপি_ওদের_টার্গেট_মুসলিম_দলিত'
বিজেপি হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বেঙ্গলি রিফিউজিস’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ও দলিত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস। আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯ ১৪:৩৫ Asia/Dhaka
  • সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস
    সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস

বিজেপি হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বেঙ্গলি রিফিউজিস’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ও দলিত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস। আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন।  

সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলেই হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। মোদি যেবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন বারাসত কাছারি বাড়ি বা কৃষ্ণনগর একইদিনে দুই জায়গায় বলেছিলেন- তাঁরা ক্ষমতায় গেলে উদ্বাস্তুদের, মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেবেন। তারপরে উনি পাঁচবছর রাজত্ব করেছেন। কিন্তু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের কিছুই হয়নি। পাঁচ বছর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঠাকুরনগরে এসে একই কথা বললেন লোকসভা নির্বাচনের মুখে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।’

সুকৃতি বাবু বলেন, ‘অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি হয়েছে। অসমে বিজেপি সরকার, কেন্দ্রেও বিজেপি সরকার রয়েছে। এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা তাদেরই মনোনীত মানুষ, কাছের মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের যিনি প্রধান বিচারপতি যিনি এনআরসির তত্ত্বাবধান করছেন তিনিও একজন অসমীয়া। তিনি যখন গুয়াহাটি হাইকোর্টে ছিলেন তখনও আমরা তাঁকে জানতাম। সবাই মিলে এনআরসি করেছেন। কিন্তু এটা করার পরে তাঁরা কেউ খুশি নন বলে বলছেন। কিন্তু আমি মনে করি তাঁরা খুশি। পুরোপুরি খুশি না হলেও তাঁরা তাদের টার্গেট যা অনেকাংশে তা বাস্তবায়িত করেছে।

বিজেপির উদ্দেশে সুকৃতি বাবু বলেন, ‘ওদের টার্গেট মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে দলিত অংশের মানুষ। যারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে, যদি হিসাব করা যায় এবং পরবর্তীতে নিশ্চয় এটা বোঝা যাবে বেশিরভাগই হচ্ছে হিন্দুদের মধ্যে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। মুসলিম যারা তাঁরা কেউ ১৯৭১ সালের পরে অসমে যাননি। বিভিন্ন রকম কাগজপত্রের সমস্যায়, ‘বিভিন্নপ্রকার ত্রুটি খুঁজে বের করে’ তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা যে মুসলিমদের উৎখাত করার কথা ভাবছিল সেটা পুরোপুরি সফল না হলেও একাংশকে কিন্তু তাঁরা বাদ দিতে পেরেছে। বিজেপির টার্গেট দলিতরাও। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে মনে হচ্ছে যে, হিন্দুদের নাম বাদ পড়েছে ফলে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। এটা  ঘটনা যে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। এবং এই জায়গা থেকে বেরোবার জন্যই তাঁরা আশ্বাস দিচ্ছেন এনআরসিতে নাম নথিভুক্তির জন্য ট্রাইবুনাল আছে, হাইকোর্ট আছে, সুপ্রিম কোর্ট আছে বেশি কিছু হবে না ইত্যাদি। তাদের বিভিন্ন সংগঠন এখন আন্দোলন করছে। দেখাতে চাচ্ছে তাঁরা যেন সবাই হিন্দুদের পক্ষে। কিন্তু আসলে এসব আইওয়াশ। এগুলো কেবল দেখানোর জন্য। এভাবে বিষয়টাকে তাঁরা থিতিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের পরিবার, সাবেক সেনা সদস্য সানাউল্লাহ-সহ আরও কিছু হিন্দুর নাম গণমাধ্যমে আসছে তাঁরা নিশ্চিতভাবে ভারতীয়। তাদের নাম কোনও কারণে বাদ পড়েছে এবং তাদের ভোগান্তি হবে, কষ্ট হবে, দুশ্চিন্তা হবে কিন্তু তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাদের নাম এনআরসিতে আসবে। কিন্তু হিন্দু দলিতের যে অংশের নাম এনআরসিতে নেই, তাঁরা হারিয়ে যাবে। তাদের নাম আর উঠবে না। তাঁরা বেনাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।’

তিনি বলেন, ‘এই যে ১৯ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আবেদন করেছিলেন হিসাবে তাদের নাম ওই তালিকায় এসেছে। কিন্তু আমার ধারণা কয়েক লাখ দলিত মানুষ আছেন যারা যারা সত্যিই ১৯৭১ সালের পরে অসমে গেছেন এবং যারা কাগজপত্র জোগাড় করতে পারেননি,  সেই লোকগুলো কিন্তু এনআরসিতে নাম নথিভুক্তির আবেদনই করতে পারেননি।’ এদের কথা কেউ ভাবছে না, এবং এটাও সবাইকে ভাবা উচিত বলে সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মন্তব্য করেন।#          

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন