কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেফতার ৭৬৫
-
কাশ্মীরে গ্রেফতার অভিযান
জম্মু-কাশ্মীর থেকে সেরাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকে বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ৭৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ১৯০টি মামলা হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি ওই তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কমেছে।
গত ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরে সেখানে বিভিন্ন প্রকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে গোটা রাজ্য কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজ্যের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষকে আটক অথবা বন্দি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভিন রাজ্যের কারাগারগুলোতেও বেশ কিছু বন্দিকে স্থানান্তর করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসকদল বিজেপি’র নেতারা বার বার কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন। যদিও সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট যে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট (৩৭০ ধারা প্রত্যাহার) থেকে চলতি মাসের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ১৯০টি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলোর সূত্রে ৭৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ অগস্ট পর্যন্ত সময়কালে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে ৩৬১টি মামলা দায়ের হয়েছিল।
বিরোধীদের প্রশ্ন, চলতি বছরে গত ৫ আগস্টের আগে (৩৭০ ধারা বাতিলের আগে) কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা কেন্দ্রীয় সরকার জানালো না কেন? ওই তথ্য না জানিয়েই কীভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কমেছে? তাঁদের দাবি, এরআগে সরকারি সূত্রেই প্রায় ৬ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে ৬০৮ জনকে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনা চেয়ে নোটিস দিয়েছিল সিপিএম ও সিপিআই। ওই ইস্যুতে দু’দলের এমপিরাও সংসদে সোচ্চার হন। কিন্তু পরে রাজ্যসভার অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।