উদ্বাস্তুদের জন্য জমির স্বত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/india-i75480-উদ্বাস্তুদের_জন্য_জমির_স্বত্ব_দেওয়ার_ঘোষণা_দিলেন_পশ্চিমবঙ্গের_মুখ্যমন্ত্রী
ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকারের জমিতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির স্বত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ (সোমবার) রাজ্য সচিবালয় নবান্নে তিনি এ সংক্রান্ত ঘোষণা করেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৫, ২০১৯ ২০:১৪ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকারের জমিতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির স্বত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ (সোমবার) রাজ্য সচিবালয় নবান্নে তিনি এ সংক্রান্ত ঘোষণা করেন।

রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার ৯৭৩ একর ও বেসরকারি সংস্থার ১১৯ একর জমিতে এই সত্ত্ব দেওয়া হবে বলে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরফলে প্রায় ১১ হাজার ৯৮৬ টি পরিবারের মোট ৫৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব উদ্বাস্তু ১২ বছর ধরে এদেশে আছেন, তাঁরা এখন এদেশের নাগরিক। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যে উদ্বাস্তুরা একই জায়গায় বসবাস করে যাচ্ছেন, তাঁদের সেই জমির অধিকার দেওয়া হবে। শেষ ৪৮ বছর ধরে তাঁরা বংশ পরম্পরায় বাস করছেন বাংলায়। সেজন্য তাঁদের অধিকার থেকে রাজ্য সরকার বঞ্চিত করতে চায় না।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১২ বছর এক জায়গায় থাকলে সেই জায়গার উপরে বসবাসকারীর একটা অধিকার জন্মায়। আর গত প্রায় ৫০ বছর ধরে উদ্বাস্তুরা এই রাজ্য বসবাস করছেন। ভোটাধিকার বা অন্য সুযোগ-সুবিধা পেলেও এতদিন জমির অধিকার পাননি। ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে নিজের জমি বা নিজের বাড়ি ছিল না তাঁদের। আমরা বহুবার কেন্দ্রীয় সরকারকে ওই সমস্যা সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু, তারা কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে ওই জমি থেকে উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের জন্য মাঝেমধ্যেই নোটিস পাঠায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় উদ্বাস্তুদেরও অধিকার আছে। সেজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে তাঁরা বসবাস করেন সেই জমির সত্ত্বাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

রাহুল সিনহা

বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘নাগরিক বিল আর এনআরসি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য ভয় পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন উদ্বাস্তুদের জমি দেবেন। এই সবই নাটক।’ 

যদিও রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকার এভাবে এক ঢিলে দুই পাখি মারল বলে বিশ্লেষকরা মনে কারছেন। একদিকে,  উদ্বাস্তুদের মন জয় করা হল, অন্যদিকে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে প্রতিপক্ষের থেকে ওই ইস্যুতে এগিয়ে থাকা গেল।  

রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্ব যখন এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন তখন উদ্বাস্তুদের জন্য রাজ্য সরকারের ওই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।#  

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।