ট্রাম্পের ভারত সফরে জমকালো আয়োজন, বিপুল খরচ নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের
https://parstoday.ir/bn/news/india-i77661-ট্রাম্পের_ভারত_সফরে_জমকালো_আয়োজন_বিপুল_খরচ_নিয়ে_প্রশ্ন_কংগ্রেসের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।  
(last modified 2026-06-16T05:39:17+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ ১৪:০১ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের ভারত সফরে জমকালো আয়োজন, বিপুল খরচ নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।  

আজ (শনিবার) কংগ্রেসের মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগমনে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে একটি সমিতির মাধ্যমে। সমিতির সদস্যরাই জানেন না যে তারা এর সদস্য। দেশবাসীর কী জানার অধিকার নেই যে, কোনো মন্ত্রণালয় ওই সমিতিকে কত টাকা দিয়েছে? সমিতির আড়ালে সরকার কী লুকোতে চাচ্ছে?’

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের জন্য সপরিবারে ভারত সফরে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁদের আহমেদাবাদ, আগ্রা ও নয়াদিল্লি সফর করার কথা রয়েছে।

সোনিয়া গান্ধী

কংগ্রেস জানতে চেয়েছে, নাগরিক অভিনন্দন সমিতির কর্মকর্তা কারা? কবে তৈরি হল সংস্থাটি? জমকালো আয়োজনের বিপুল অর্থ তারা পেল কোথা থেকে? দলটির সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আনন্দ শর্মার অভিযোগ, সরকারি ব্যয়কে বেসরকারি বলে চালাতেই ছদ্মনামের আশ্রয় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের সরকার। গুজরাটে বিরোধী দলের এমপি ও বিধায়কদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কংগ্রেসের বক্তব্য, অভিনব অভিনন্দনের আয়োজন ভালো কথা। কিন্তু, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ভারতের প্রাপ্তি কী হবে, সেই দিকটি নিশ্চিত করা উচিত।

আনন্দ শর্মা

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘ভারত সরকার দাবি করেছে যে সমস্ত ব্যবস্থাপনার কাজ 'নাগরিক শুভেচ্ছা সমিতি' করছে। তাহলে কী এই সমিতির আমন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে আসছেন? ওই সমিতি কবে গঠিত হয়েছিল, কবে নিবন্ধকরণ হয়েছিল? এত টাকা কোথা থেকে এলো? বাস্তবতা হ'ল সমস্ত অর্থ ভারত ও গুজরাট সরকারের।’

সপরিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুজরাটের আহমেদাবাদে স্বাগত জানাবে ‘নাগরিক অভিনন্দন সমিতি’। রাতারাতি গজিয়ে ওঠা এই সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্নমহল। বিপুল ব্যয় নিয়েও রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সরকার ওই ইস্যুতে কোনও সাফাই দেয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশ, ট্রাম্প ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানাতে আহমেদাবাদে কমপক্ষে ১৩০ কোটি টাকা খরচ হবে।

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘মার্কিনপ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসবেন সেজন্য তাঁর যাওয়ার রাস্তা থেকে গরীব মানুষদের তাঁদের জায়গা থেকে সরিয়ে দিতে হবে! উঁচু উঁচু দেওয়াল তুলতে হবে। এটা হচ্ছে আজকের গুজরাট মডেল।এটা আমিও সংবাদপত্রে দেখেছি যে, তিন ঘণ্টার জন্য একশো কোটি টাকা খরচা হচ্ছে।’  

ড. আব্দুস সাত্তার বলেন,‘আসল বিষয়টা হচ্ছে সারা বিশ্বজুড়ে একটা দক্ষিণপন্থার উত্থান হয়েছে। মার্কিনপ্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই সরকারের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে মিল আছে। কারণ একটা অক্ষ তৈরি হয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে যে জায়গায় আমরা নির্জোট আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী দেশ ছিলাম, সেই জায়গা থেকে সরে গিয়ে আমরা একপক্ষীয় পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা চলে গেছি। ‘ভারত-ইসরাইল-আমেরিকা’ একটা পক্ষ হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি কিছুদিন পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে, তাঁর হয়ে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রচার করে এলেন আমেরিকায়। এখানে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসছেন। এটা কেউ জানে না যে কী চুক্তি হবে, বা হবে না। অর্থনৈতিক চুক্তি আদৌ কী হবে, নাহবে তা প্রকাশ্যে আসেনি। এই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসছেন যিনিকোনও বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন না। তিনি আসছেন, তিনি সভা করবেন তারপরে চলে যাবেন। এবং এটা নিয়ে যেভাবে আমরা আগেও দেখেছি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, দেশ  হোক বা বিদেশ হোক, একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মতো বড় অনুষ্ঠান করতে চান। সবাইকে চমকে দিতে চান। এসবে বৈদেশিকক্ষেত্রে কী লাভ হয়েছে আমি জানি না। কিন্তু উনি (মোদি) যেখানে যান, ভারতীয়দের নিয়ে সভা করেন, লোকজন সেসব সংগঠিত করে। কোথা থেকে পয়সা আসে, না আসে সেসব তো আমরা বলতে পারবনা। কিন্তু এই ঘটনাগুলো ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী দেখছেন, ভারতবর্ষ একটা অর্থনৈতিক  বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জিডিপি প্রায় সাড়েচার শতাংশে চলে এসেছে। মাপার পদ্ধতি পরিবর্তন করলে তা প্রায় আড়াই শতাংশে নেমেআসছে। দেশে ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বেকারত্ব। শিল্পের ক্ষেত্রে একটা ভয়াবহ অবস্থাচলছে। মানুষের হাতে কোনও কাজ নেই। এরকম পরিস্থিতিতে এভাবে তিন ঘণ্টার জন্য একশোকোটি টাকার খরচা করা, এটা আমাদের মতো দেশে আজকের মতো অর্থনৈতিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে সত্যিই তো চিন্তার বিষয়!’#    

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।