বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ইস্যুতে ভারত সরকারের আবেদন খারিজ
ভারতের রাজধানী দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতায় বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ইন্ধন যুগিয়েছে বলে অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার যে দাবি উঠেছে সেসম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্টকে আগামী (শুক্রবার) শুনানির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আজ (বুধবার) সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশ দিয়েছে।
এরআগে হাইকোর্ট ওই ইস্যুতে ৪ সপ্তাহের সময় দিয়েছিল। আজ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষের হয়ে সাফাইতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে দুই/তিনটি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের জেরে এরকম জাতি হিংসা হতে পারে।’ তিনি আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চাইলেও শীর্ষ আদালত তা মঞ্জুর না করে আগামী শুক্রবারেই শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
এরআগে বিদ্বেষ মন্তব্য ইস্যুতে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর না হওয়ায় দিল্লি পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলিধর।
দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতায় কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুরের মতো বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ‘দেশ কি গদ্দারোঁ কো, গোলি মারো সালোঁ কো’— এই স্লোগান তুলেছিলেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। আরেক বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র বলেছিল, ‘আরেকটা শাহীনবাগ হতে দিইনি’। এসব মন্তব্য উত্তর-দিল্লির জাতি হিংসায় উস্কানি দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই এলাকার বেশ কিছু সাধারণ মানুষ।
বিজেপির এসব অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি এস মুরলীধর। আদালতেই চালানো হয়েছিল বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর, কপিল মিশ্র, অভয় বর্মা ও পরবেশ বর্মাদের উস্কানিমূলক ভাষণের ভিডিয়ো। এরপরেই উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পরেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশ্ন তুলে দিল্লির পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে অবিলম্বে পুলিসকে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয় আদালত।
কিন্তু রাতারাতি দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরকে বদলি করে পঞ্জাব হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপরের দিনই এফআইআর ইস্যুতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিএন পটেল ও বিচারপতি সি হরিশঙ্করের সমন্বিত বেঞ্চ সরকার পক্ষকে চার সপ্তাহের সময় দেয়। কিন্তু সেই সময় দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এত সময় দেওয়া ‘অনুচিত’ বলে মন্তব্য করে আগামী ৬ মার্চ শুক্রবারেই সব মামলা একত্রিত করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এরআগে দিল্লি হাইকোর্ট ওই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ এপ্রিল নির্ধারিত করেছিল। কিন্তু আজকের সুপ্রিম নির্দেশে ওই মামলার শুনানি এগিয়ে এনে আগামী শুক্রবারেই এ সংক্রান্ত সব মামলা একত্রিত করে শুনানি করতে বলা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।