ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯, বিদেশে আক্রান্ত ২৭৬
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯ জনে পৌঁছেছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতর নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনা। এছাড়া বিদেশে ২৭৬ ভারতীয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাজ্যসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ বিদেশে ২৭৬ জন ভারতীয় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে ইরান-কুয়েতসহ আরব দেশগুলোতে ছ’হাজারেরও বেশি ভারতীয় আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, লেহ’তে সেনাবাহিনীতে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পরে সব বাহিনীকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সবধরনের বৈঠক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং মহড়া বন্ধ রাখা হচ্ছে। সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) পরীক্ষাসহ দেশজুড়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনাবাহিনী। পুণেতেও এক সেনা কর্মকর্তার শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়া গেছে। পুণের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, লেহ’তে করোনা আক্রান্ত এক জওয়ানের সঙ্গে ১০ জন একই ছাউনিতে থাকায় তাঁদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ নিরোধক করা হয়েছে ওই ছাউনি। লাদাখ রেজিমেন্টের প্রায় ৮০০ জওয়ানকে গৃহবন্দি হতে বলা হয়েছে। তালাবন্দি করা হয়েছে লেহ স্কাউট। লেহ’র কমিশনার সেক্রেটারি (স্বাস্থ্য) রিগজিন সম্ফেল বলেন, ‘সেনাবাহিনীর লাদাখ স্কাউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ করোনা মোকাবিলায় ভিড় এড়াতে লেহ এবং কারগিল জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি’র অভিযোগ, ‘আমাদের সরকার সুচিন্তিত পদক্ষেপই গ্রহণ করতে করতে পারেনি। দেশকে এর বিরাট মূল্য দিতে হবে।’
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রির্সাচের (আইসিএমআর) একটি আলোচনায় জানা গেছে, প্রায় ১৩০ কোটির দেশে একবার করোনা গ্রাস করতে শুরু করলে, খুব সমস্যায় পড়তে হবে। আইসিএমআর-এর সাবেক প্রধান ডা. টি ইয়াকোব জন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আপাতত দেখা যাচ্ছে দেড় শ মানুষের করোনা পজিটিভ এসেছে। কিন্তু সতর্ক না হলে ওই সংখ্যাটাই ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ হবে। এখন একজন করোনা রোগীও ধ্বংসের কারণ হতে পারেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও জনসমাবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে। যতটা সম্ভব বাড়িতে সময় কাটাতে হবে। বারবার হাত-মুখ ধুয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একটা ভুলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লি সরকার গণ-পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গাড়ি জীবাণুমুক্ত করছে। দিল্লির পরিবহণ মন্ত্রী কৈলাস গহলৌত বলেন, ‘গণপরিবহণের গাড়ির মালিক ও পরিচালকদের অনুরোধ, রোজ গাড়ি জীবাণুমুক্ত করিয়ে নিন, যাতে আমরা এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারি।’
আইসোলেশনে ভর্তি রোগীর আত্মহত্যা
এদিকে, বুধবার করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালের সাত তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর দেহরস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পাঞ্জাবের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি গত এক বছর ধরে সিডনিতে ছিলেন। তিনি এয়ার ইণ্ডিয়ার বিমানে দিল্লি আসা মাত্রই তাঁকে দ্রুত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।