প্রায় ৮ মাস পর মুক্তি পেলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ
-
ওমর আবদুল্লাহ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ প্রায় আট মাস পরে মুক্তি পেয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান তিনি। জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) অধীনে অভিযোগ প্রত্যাহার করার পরে প্রশাসন থেকে আজই তার মুক্তির আদেশ জারি করা হয়েছিল।
গত বছরের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পরে ওমর আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। প্রায় ২৩২ দিন আটক অবস্থায় ছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওই নেতাকে আগে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইন (পিএসএ) কার্যকর করা হয়।
আজ মুক্তি পাওয়ার পরে ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি জানতে পারলাম যে আমরা জীবন এবং মৃত্যুর যুদ্ধ করছি। যাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাদের এই সময়ে মুক্তি দেওয়া উচিত। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের সরকারের আদেশ পালন করা উচিত।’
ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহকে এমন সময়ে মুক্তি দেওয়া হল যখন কয়েকদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে হয় তাঁকে শিগগিরি মুক্তি দিক অন্যথায় আদালত ওমর আবদুল্লাহর বোন সারা পাইলটের আবেদনের শুনানি করবে বলে জানিয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক ওই মুখ্যমন্ত্রীকে আটক রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছিল আপনারা যদি ওমর আবদুল্লাহকে মুক্তি দিতে চান তবে তাকে শিগগিরই মুক্তি দিন, অন্যথায় আমরা তার বোনের আবেদনের শুনানি করব। সরকারি আইনজীবীকে কাশ্মীরে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পরে ওমর আবদুল্লাহর মুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে জানানোর নির্দেশও দেয় শীর্ষ আদালত। এরপরেই ওমর আব্দুল্লাহর মুক্তির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।
এরআগে গত ১৩ মার্চ জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, এখনও আটক করে রাখা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভানেত্রী মেহবুবা মুফতি। মেহেবুবা অথবা অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবছে, সে বিষয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট না হলেও এবার মেহবুবা মুফতিসহ অন্য নেতা-নেত্রীদের মুক্তির সম্ভাবনাও জোরালো হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪