মহারাষ্ট্রের পালঘরে গণপিটুনিতে সন্ন্যাসীসহ নিহত ৩, ধৃত ১১০
-
ভারতের মহারাষ্ট্রের পালঘরে ২ সন্ন্যাসীসহ ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসীরা।
ভারতের মহারাষ্ট্রের পালঘরে ২ সন্ন্যাসীসহ ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসীরা। কমপক্ষে ১০০ গ্রামবাসী সন্ন্যাসীদের ওপরে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। নিহত ২ সাধু/সন্ন্যাসীর মধ্যে একজনের জনের বয়স ৭০ বছর। নিহত দুই সাধু হলেন সুশীল গিরি মহারাজ (৩৫) এবং চিকানে মহারাজ কল্পবৃক্ষগিরি (৭০)। তাঁদের গাড়ির চালক নীলেশ তেলাঙ্গেকেও (৩৫) মারমুখী উন্মত্ত জনতা ইট, পাথর বাঁশ, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
গত (বৃহস্পতিবার) রাতের ওই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা শিশুদের কিডনি চুরি করতে এসেছিল বলে গুজবের জেরে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে।
গতকাল (রোববার) রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, পালঘর গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেছেন, ‘এই গণপিটুনির ঘটনাটি অত্যন্ত মারাত্মক। যে নিষ্ঠুরতার সাথে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতার লজ্জা! পুলিশের সামনে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি, এরচেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে! মহারাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা নিম্নমানের হয়ে উঠেছে। এটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা উচিত।’
দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেছেন। কংগ্রেস নেতা অভিষেক সিংভি মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্দেশে অপরাধীদের গ্রেফতার করে কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাধু/সন্ন্যাসীদের সংস্থা ‘অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ’ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তারা চলমান লকডাউন পরিস্থিতি শেষে মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ ওই ঘটনায় ১১০ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ১০১ জনকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হেফাজতে নিয়েছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া ৯ জন নাবালককে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ ওই ঘটনাকে যেন সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন। এ ব্যাপারে যারা সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে, পুলিশ তাদের ওপরে কড়া নজর রাখছে বলে তিনি জানান।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ‘আক্রান্ত ও হামলাকারীরা একই সম্প্রদায়ের লোক। এনিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা হলে মহারাষ্ট্র পুলিশের সাইবার সেল কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
মহামান্ডলেশ্বর স্বামী বিশ্বেশ্বরানন্দ গিরি ওই ঘটনাকে সভ্য সমাজের উপরে কলঙ্ক বলে অভিহিত করে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারিকে চিঠি দিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।