করোনা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও তৃণমূল এমপিদের দ্বন্দ্ব চরমে
https://parstoday.ir/bn/news/india-i79370-করোনা_ইস্যুতে_পশ্চিমবঙ্গের_রাজ্যপাল_ও_তৃণমূল_এমপিদের_দ্বন্দ্ব_চরমে
করোনাভাইরাস ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও তৃণমূল এমপিদের মধ্যে জোরালা সংঘাত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দেন অনাবাসী ১৪ জন চিকিৎসক। এদেরমধ্যে ১১ জন আমেরিকা, দুইজন ইংল্যান্ড ও একজন জার্মানিতে থাকেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২৬, ২০২০ ০৭:৩১ Asia/Dhaka
  • রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়
    রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

করোনাভাইরাস ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও তৃণমূল এমপিদের মধ্যে জোরালা সংঘাত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দেন অনাবাসী ১৪ জন চিকিৎসক। এদেরমধ্যে ১১ জন আমেরিকা, দুইজন ইংল্যান্ড ও একজন জার্মানিতে থাকেন।

অনাবাসী চিকিৎসকরা করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করার পরেই মাঠে নামেন তৃণমূল এমপি মহুয়া মৈত্র। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেন, ‘যথাযথ সম্মান রেখে বলছি, আপনারা তো অন্য দেশে থেকে চিকিৎসা করছেন, কর দিচ্ছেন। ভারতের তুলনায় আমেরিকা ও ব্রিটেনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। আপনারা বরং যে দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন, সেখানেই কাজ করুন।’

এরপরেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় পাল্টা টুইটে বলেন, ‘মহুয়া মৈত্র অদ্ভুত অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর অবস্থান অযৌক্তিক। তা দেখে আমি স্তম্ভিত! অনাবাসী চিকিৎসকরা উদ্বেগজনক ইস্যুগুলোকে তুলে ধরে চোখ খুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর মোকাবিলা করুন এবং পশ্চিমবঙ্গকে সাহায্য করুন।’

তৃণমূল এমপি মহুয়া মৈত্র

গতকাল (শনিবার) তৃণমূল এমপি মহুয়া মৈত্র অনাবাসী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের স্বেচ্ছা নির্বাচিত দেশে ব্রিটেন ও আমেরিকা উন্নত অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। প্রশাসনের গাফিলতিতে পিপিই বা জরুরি সরবরাহ না মেলায় স্বাস্থ্য কর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আপনারা কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বা বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নরদের চিঠি লিখছেন না? এখানে হিরো হওয়াটা অনেক সোজা তাই না?’

মহুয়া মৈত্র গণমাধ্যমে এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে আরও বলেন,  ‘ওই ১৪ জন যেখানে থাকেন, যে দেশগুলোকে তাঁরা স্বেচ্ছায় সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন, সেখানকার দিকে তাকিয়েছেন ওঁরা? খবর নিয়েছেন? আমি তো আমেরিকার মতো করোনা পরিস্থিতি এত খারাপভাবে সামলাতে আর কোনও দেশকে দেখিনি। লকডাউন থেকে শুরু করে হাসপাতালের পরিসেবা কী অবস্থা! স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই পাচ্ছেন না। ভেন্টিলেটর পাচ্ছেন না। চূড়ান্ত অব্যবস্থা। আর ইংল্যান্ড? তারাও তো তথৈবচ। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত! ভেবে দেখেছেন, কতটা অসচেতন হলে এটা হয়। পরে তো স্বীকারও করেছেন, তাঁর দেশে টেস্ট কম হয়েছে। অনেক কম হয়েছে। উন্নত দেশ। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ নয়। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একেবারে এক নম্বর। তারপরেও সেখানকার চিকিৎসা পরিকাঠামো কিন্তু করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ।’

এদিকে, আজ (রোববার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, রাজ্যপালের ভূমিকাকে তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল এমপি শান্তনু সেন বলেছেন, ‘রাজ্যপালের অ্যাক্টিভিটি এরকম হতে পারে! আমার তো মনে আগামীদিনে ‘কলতলার ঝগড়া’ হলেও উনি সেখানে যুক্ত হয়ে যাবেন। চিকিৎসক হিসেবে যদি আমি বলি, আমার মনে হচ্ছে কোথাও একটা কিছু সমস্যা আছে। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য উনি যদি আমার সহযোগিতা উনি চান ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের চিফ হিসেবে তাহলে আমি ওনাকে ভালো কনসালটেশন, ভালো কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’

তৃণমূল এমপি শান্তনু সেন

তিনি আরও বলেন, ‘উনি অশোক স্তম্ভের (সরকারি প্রতীক) অবমাননা করছেন। তাই আমার মনে হয় এধরণের বক্তব্য রাখার আগে তিনি অশোক স্তম্ভ সরিয়ে একটা ‘পদ্ম ফুল’ (বিজেপি’র প্রতীক চিহ্ন) মাথার ওপরে নিয়ে বসলে বোধহয় অন্তত অশোক স্তম্ভের সম্মানটা বেচে যাবে।’

বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু অবশ্য রাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, রাজ্যপালকে রাজ্যের তৃণমূলের নেতারা অনেক রকমের অপশব্দ ব্যবহার করেছেন। রাজ্যপাল তাঁর নিজস্ব গরিমা আছে। পশ্চিমবঙ্গের সংবিধানের উনি রক্ষাকর্তা। উনি আমাদের অভিভাবক, পরামর্শদাতা। কাজেই ওনার সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে সকলকে সচেতন হয়ে বলা দরকার। সরকার তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন না, এটা বলা তার পক্ষে ভুল হয়েছে যারা বলছেন, তারা নিজেরা ভুল করছেন।’

‘রাজ্যপাল রাজ্যপালের কাজ করছেন। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন’ বলেও বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু মন্তব্য করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।