উত্তর প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ পরিযায়ী শ্রমিক নিহত, প্রধানমন্ত্রীর শোক
-
উদ্ধার অভিযান
ভারতের উত্তর প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিহত ও ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছে। আজ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৩ টা নাগাদ উত্তর প্রদেশের অরাইয়াতে জাতীয় সড়কের উপরে দুটি ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অরাইয়ার মুখ্য মেডিক্যাল কর্মকর্তা (সিএমও) অর্চনা শ্রীবাস্তব বলেন, ‘হাসপাতালে ২৪ জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এখনও ২২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন। এরমধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদেরকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।’
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে প্রকাশ, শ্রমিকরা একটি ট্রাকে চড়ে রাজস্থান থেকে আসছিলেন। এসময় উত্তর প্রদেশের অরাইয়ায় অন্য একটি ট্রাক তাদের ট্রাকে ধাক্কা মারে।
অওরিয়ার জেলা প্রশাসক অভিষেক সিং জানিয়েছেন, ওই শ্রমিকরা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘উত্তর প্রদেশের অরাইয়ার সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোক প্রকাশ করাসহ দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি বলেছেন, ‘উত্তর প্রদেশে অরাইয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের আহত হওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রার্থনা করি, আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’
উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ওই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়, হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।
উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বহজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকালই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, যেকোনও শ্রমিক এখানে (রাজ্যে) আসবেন বা এরমধ্য দিয়ে যাবেন, কর্মকর্তারা তাদের থাকার ব্যবস্থা, খাবার ও সুরক্ষার জন্য পুরো ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কর্মকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকাগুলো গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না, যার কারণে আজ বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেসমস্ত কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব পালন করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি। ওই দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।’
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত শ্রমিকরা হলেন, ১) বিভূতি ২) নন্দ কিশোর নন্দ ৩) কনি লাল ৪) মুন্না যাদব ৫) অর্জুন চৌহান ৬) রাজা গোস্বামী ৭) মিলন ৮) গৌরাঙ্গ ৯) অমিত ১০) চন্দন রাজভর ১১) নকুল মাহাতো ১২) সত্যেন্দ্র ১৩) গণেশ ১৪) অজ্ঞাত ১৫) অজ্ঞাত ১৬) অজ্ঞাত ১৭) উত্তম ১৮) সুধীর ১৯) কীর্তি ২০) ডা. মোহন্তী ২১) অজ্ঞাত ২২) মুকেশ ২৩) অজ্ঞাত ২৪) সোমনাথ।
লকডাউনজনিত কারণে কাজ হারিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিগত ১০ দিনে মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশে ৯৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
এ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. মুহাম্মাদ ইসমাইল আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘উত্তর প্রদেশে যে ঘটনা ঘটল বা রেল লাইনে কাটা পড়ে যে ঘটনা ঘটেছে, এগুলো সত্যিই খুব মর্মান্তিক ঘটনা! আমাদের সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত যাতে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে আসতে পারে। তাদেরকে একটা সুস্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া উচিত, কারণ তারা এখন আতঙ্কিত! একে তো পেটের জ্বালা সহ্য করতে পারছে না। কতদিন আর আধপেটা বা না খেয়ে থাকবে।
দ্বিতীয়ত, তাঁরা অনিশ্চিত যে কত দিন এই লকডাউন চলবে সেই বিষয়ে। তাঁদের আত্মীয়স্বজন পরিবারের লোকজন বাইরে রয়েছে। এভাবে তাঁরা অশান্তির মধ্যে রয়েছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিটা সরকারের ভাবা উচিত এবং সরকারকে একটা সুস্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া উচিত তারা যাতে রাস্তায় না বেরিয়ে পড়েন, তাদেরকে যাতে সংগঠিতভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়।’ আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদেরও ওই ইস্যুতে সরকারের কাছে দাবি জানানো উচিত বলেও ড. মুহাম্মাদ ইসমাইল মন্তব্য করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।