'চীন ভারতীয় সেনাদের আটক করেনি, অস্ত্রও ছিনিয়ে নেয়নি'
-
চীন ও ভারতের সেনা
ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় সেনাদের আটক করেনি চীন এবং অস্ত্রও ছিনিয়ে নেয়নি।
গত ৯ মে ভারতীয় জওয়ান ও আধাসামরিক বাহিনী আইটিবিপি’র টহলদারি দলের সঙ্গে হাতাহাতি বাধে চীনা বাহিনীর। প্যাংগং লেকের কাছে ওই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। তার জেরে ভারতীয় জওয়ান ও আইটিবিপি’র টহলদারি দলকে চীনা বাহিনী আটক করে রেখেছিল বলে গণমাধ্যমের একাংশে খবর ছড়িয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের অস্ত্রশস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করেছিল বলে খবর। অবশেষে উভয়পক্ষের কমান্ডারদের মধ্যে বৈঠকের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ভারতীয় জওয়ানদের অস্ত্রশস্ত্রসহ ছেড়ে দেয় চীনা বাহিনী।
যদিও গণমাধ্যমে ছড়ানো ওই অভিযোগ খারিজ করেছে ভারতীয় সেনার একটি সূত্র। ওই বিবাদ সম্পর্কে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এটুকুই কেবল বলা হয়েছে যে, টহল চলাকালীন সেনাবাহিনী বা আইটিবিপি জওয়ানদের চীনা সেনাবাহিনী দ্বারা আটক করা হয়নি বা অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়নি।
আজ হিন্দি টিভি চ্যানেল ‘আজতক’-এর ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আমন আনন্দ বলেছেন, সীমান্তে কোনও ভারতীয় সেনাকে আটক করা হয়নি। আমরা স্পষ্টতই এটিকে অস্বীকার করছি। তিনি আরও বলেন, যখন গণমাধ্যম এ ধরণের খবর চিন্তা না করে চালায়, তখন তা কেবল জাতীয় স্বার্থেই আঘাত করে।
এদিকে, আজ (রোববার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘জাগরণ ডট কম’ জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও, বিতর্কিত এলাকায় চীনা সেনাবাহিনী গত দুই সপ্তাহে ১০০ টি তাঁবু স্থাপন করেছে। সম্ভাব্য বাঙ্কার নির্মাণের জন্য সরঞ্জাম আনা হয়েছে। বিতর্কিত অঞ্চলের পরিস্থিতির সাথে পরিচিত লোকেরা জানিয়েছে, চীন গ্যালওয়ান উপত্যকায় তার উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
এভাবে উত্তেজনার মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে গত শুক্রবার কার্যত নিঃশব্দে লেহ’র চৌদ্দতম কর্পস সদর দফতর পরিদর্শন করেছেন এবং শীর্ষ কমান্ডারের সাথে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
ভারতীয় এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে প্যাংগং সংলগ্ন এলাকায় উভয়পক্ষের সমান সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। লাদাখের উত্তর সাব সেক্টরে গ্যালওয়ান নদীর তীর বরাবর তিনটি তাঁবু ফেলেছে চীন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে ভারতও। প্যাংগংয়ের উত্তরে, দেমজক এবং গ্যালওয়ান উপত্যকা এলাকায় তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছে দু’পক্ষের সেনা। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে দৈনিক রিপেোর্ট নিচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
গ্যালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সড়ক ও সেতু নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলে আসছে চীন। গত ৯ মে উত্তর সিকিমের নাকু লা সেক্টরে ভারতীয় সেনার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে চীনা বাহিনী। এরফলে উভয়পক্ষের বেশকয়েক জন জওয়ান আহত হয়। স্থানীয়স্তরে আলোচনার পরে সেসময় পরিস্থিতি শান্ত হয়। চীন নাকু লা সেক্টরে সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে এগোচ্ছিল বলে ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।