ভারতে করোনা আক্রান্তের ১১ লাখ ৫৫ হাজার, পশ্চিমবঙ্গে ফের লকডাউন
ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৫৫ হাজার ১৯১ জনে পৌঁছেছে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৮৪। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার ১৪৮ জন নতুনভাবে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। একইসময়ে ৫৮৭ জন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছে।
আজ সকাল ৯ টা নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই তথ্য জানিয়েছে। গতকাল (সোমবার) সকাল ৮ টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৪২৫ জন নতুনভাবে করোনা সংক্রমিত হয়েছিল। একইসময়ে ৬৮১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার সেই তুলনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা কিছুটা কম।
দেশে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ৫৫ হাজার ১৯১ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৮ জন সুস্থ হওয়ায় বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৫২৯। গতকাল সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৯।

ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে কেবলমাত্র মহারাষ্ট্র রাজ্যেই ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৫ জন সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে ১২ হাজার ৩০ জন করোনা রোগী।
করোনায় মৃতের সংখ্যার নিরিখে রাজধানী দিল্লি, তামিলনাড়ু, গুজরাট, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য এগিয়ে রয়েছে।
একদিনে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একদিনে কর্ণাটকে ৭২, তামিলনাড়ুতে ৭০, অন্ধ্র প্রদেশে ৫৪, উত্তর প্রদেশে ৪৬, পশ্চিমবঙ্গে ৩৫, দিল্লিতে ৩৫, গুজরাটে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক সংক্রমণ শুরু হওয়ায় চলতি সপ্তাহে আগামী (বৃহস্পতিবার) ও (শনিবার) রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে বুধবার ও অন্য একদিন লকডাউন হবে। যদিও নয়া লকডাউন পদ্ধতি কতদিন চলবে সেই বিষয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে নয়া লকডাউন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এমপি। অধীর বাবু বলেন, ‘করোনা মোকাবিলা করার জন্য রাজ্য সরকার সাড়ে চার মাস সময় পেয়েছে যেখানে স্বাস্থ্য পরিসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাকে প্রস্তুত করতে পারত। যদি সেটা পারত তাহলে এরকম আধা সেদ্ধ, আধা পক্ক, আধা ভাজা একটা সিদ্ধান্ত নিতে হতো না। কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাড়ে চার মাস ধরে চুপচাপ বসে থাকল সেটাই প্রশ্ন।’
রাজ্য বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারের অপদার্থতার জন্য সমস্যাটা বাড়ল, গোপন করতে গিয়ে আমরা সমস্ত অসতর্কতার শিকার হলাম। সতর্কতাকে নষ্ট করলাম, গোপন করলাম। রোগকে চেপে রাখতে চাইলাম। রোগকে চেপে রেখে দিয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। রোগটাকে প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে লড়তে হয়।’
সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকার যদি লকডাউনের সচতন সিদ্ধান্ত নেয় আমরা মানুষকে বলব, সরকারের দোষ-গুণ পরে আলোচনা করা যাবে, আপাতত লকডাউন মানুন। পেটে গামছা বেঁধে থাকুন। কিন্তু সরকার যেন লকডাউনের সময়ে মানুষের স্বার্থকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেয়।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১