রাম আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি, ভারতের মর্যাদা পুরুষোত্তম: মোদি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i82047-রাম_আমাদের_সংস্কৃতির_ভিত্তি_ভারতের_মর্যাদা_পুরুষোত্তম_মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘গোটা দেশ এখন রামময়। রামজন্মভূমি আজ মুক্ত। সরযূ নদীর তীরে সূচনা হল স্বর্ণযুগের।’ তিনি আজ (বুধবার) উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বহুলালোচিত রাম মন্দিরের ভূমি পুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে এক বক্তব্যে ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০২০ ১৩:৫৯ Asia/Dhaka
  • রাম আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি, ভারতের মর্যাদা পুরুষোত্তম: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘গোটা দেশ এখন রামময়। রামজন্মভূমি আজ মুক্ত। সরযূ নদীর তীরে সূচনা হল স্বর্ণযুগের।’ তিনি আজ (বুধবার) উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বহুলালোচিত রাম মন্দিরের ভূমি পুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে এক বক্তব্যে ওই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রামমন্দিরের জন্য অনেকেই জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। সেজন্য আজকের দিন হল ত্যাগ ও তপস্যার দিন। আর এই মন্দির হল ত্যাগ ও তপস্যার প্রতীক। এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রতীক। আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাবনার প্রতীক।

তার দাবি, ‘এই মন্দির তৈরির পরে গোটা বিশ্ব থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসবেন। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, ‘শ্রীরাম ভারতের মর্যাদা পুরুষোত্তম। রাম আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি। এরই আলোকে অযোধ্যায় রাম জন্মভূমিতে শ্রীরামের বিশাল মন্দিরের জন্য আজ ভূমি পুজো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, মানবজীবনে আমরা যখন রামকে মেনে চলেছি, তার আদর্শের পথে আমরা থেকেছি তখনই বিকাশ হয়েছে। সেই পথ থেকে বিভ্রান্ত হলেই বিনাশ হয়েছে। আমাদের সবার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে, সবার সঙ্গে থেকে সবার উন্নতি করতে হবে। সবার আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ধরে কাঠ আর তাঁবুর নীচেয় থাকা রামলালার জন্য এবার মন্দির নির্মাণ। ভাঙা গড়ার মধ্যদিয়ে উঠে আসা এই মন্দির ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে। ভগবানের রামের অদ্ভুত শক্তি দেখুন। ইমারত ধ্বংস হয়ে গেছে। অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাম এখনও আমাদের মনে রয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির আধার তিনি। ভারতের মর্যাদা পুরুষোত্তম হলেন ভগবান রাম।

আজকের ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, রাম মন্দির ইস্যুতে ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি আজ বলেন, ‘রাম মানে প্রেম। ঘৃণার মধ্যে দিয়ে তাকে কখনও প্রকাশ করা যায় না। রাম মানে সহানুভূতি। নৃশংসতার মধ্যে তার বিকাশ হয় না। রাম মানে ন্যায়। অন্যায়ের মধ্যে তাঁর প্রতিফলন হয় না।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, একে অপরের ভাই-ভাই! আমার ভারত মহান, মহান আমার হিন্দুস্তান! আমাদের দেশ তার চিরায়ত বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে এবং আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখবো।

এদিকে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ড  বলেছে, ‘কোনো সময়ে মসজিদ থাকলে তা চিরকালই মসজিদ। এ প্রসঙ্গে তুরস্কের ইস্তানবুলে আয়া সোফিয়ার উদাহরণ দেওয়া হয়।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি রহমানী বলেন, বাবরী মসজিদ ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে। মসজিদে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে, বা পুজোপাঠ শুরু করে বা দীর্ঘকাল নামাজ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে মসজিদের মর্যাদা শেষ হয় না। আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে বাবরী মসজিদ কোনও মন্দির বা কোনও হিন্দু প্রার্থনাস্থল ভেঙে নির্মিত হয়নি। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন এ নিয়ে মন খারাপ করার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি চিরকাল স্থায়ী হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। সেজন্য আমাদের পক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের রায় গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু, আমরা নিশ্চিতভাবে বলব ওই রায় অন্যায্য ও অপরিষ্কার।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপি নেতাদের প্ররোচনায় করসেবকনামধারী উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা বাবরী মসজিদ ধ্বংস করেছিল। তাঁদের দাবি, এটি  ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জন্মস্থান। ওই ইস্যুতে দীর্ঘকাল ধরে আদালতে আইনি লড়াইয়ের পরে গতবছর নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত ওই জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। এব্যাপারে আদালতে মুসলিমদের আপত্তি ও দাবি খারিজ হয়ে যায়। এরপরেই বহুলালোচিত রাম মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত হয়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৫