জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার অজুহাতে মুসলিমদের জমি দখল করতে চাচ্ছে সরকার : মেহেবুবা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i84718-জম্মু_কাশ্মীরে_৩৭০_ধারার_অজুহাতে_মুসলিমদের_জমি_দখল_করতে_চাচ্ছে_সরকার_মেহেবুবা
জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভানেত্রী মেহেবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিমদের টার্গেট করছে এবং জম্মু-কাশ্মীরে জমি তাদের পুঁজিপতি সমর্থকদের কাছে বিক্রি করতে যাচ্ছে। মেহেবুবা মুফতির অভিযোগ, ৩৭০ ধারার অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের মুসলিমদের জমি দখল করতে চাচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৮, ২০২০ ১৪:১৬ Asia/Dhaka
  • জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভানেত্রী মেহেবুবা মুফতি
    জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভানেত্রী মেহেবুবা মুফতি

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভানেত্রী মেহেবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিমদের টার্গেট করছে এবং জম্মু-কাশ্মীরে জমি তাদের পুঁজিপতি সমর্থকদের কাছে বিক্রি করতে যাচ্ছে। মেহেবুবা মুফতির অভিযোগ, ৩৭০ ধারার অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের মুসলিমদের জমি দখল করতে চাচ্ছে।

মেহেবুবা গত (সোমবার) দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওের জঙ্গলে  বসবাসকারী গুর্জর এবং বাকরওয়াল সম্প্রদায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, যাদের অস্থায়ী বাসস্থানগুলো আগে বন দফতরের পক্ষ থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল। মেহবুবা মুফতি ওই পদক্ষেপ গ্রহণকে মুসলিম বিরোধী বলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন।

মেহেবুবার মতে, কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণ করে সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে কাশ্মিরে এনে বসাতে চাচ্ছে এবং অন্যদিকে, এখানকার আদি মানুষজনকে স্থানচ্যুত করার চেষ্টা করছে। মেহেবুবা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার গুর্জর ও বাকরওয়াল সম্প্রদায়কে যদি টার্গেট করা বন্ধ না করে, তবে তাদের শান্তির পথ ছেড়ে সহিংসতার পথে  যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা এখান থেকে মুসলিমদের সরিয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তন করতে চাচ্ছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ওই লোকেরা অবৈধভাবে বনভূমির জমি দখল করে ছিল। সেজন্য ওই অবৈধ দখল সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও মেহেবুবা মুফতির সঙ্গে যে গুর্জর ও বাকরওয়াল সম্প্রদায়ের লোকেরা সাক্ষাত করেছিলেন, তারা বলেছেন, তাদের পরিবার গত একশো বছর ধরে বনভূমিতে বসবাস করে আসছেন।

এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ডা. ফারুক আবদুল্লাহকে চীনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতিকেও তিনি ভারত ছেড়ে, কাশ্মীর ছেড়ে দিয়ে বিশ্বের অন্য কোথাও বাস করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। জম্মু-কাশ্মীরে এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের দরকার নেই এবং গুপকার ঘোষণাপত্রের জন্য পিপলস অ্যালায়েন্সের ব্যানারে নবগঠিত জোটের বেলুন ইতোমধ্যে ফুটো হয়ে গেছে ও কাশ্মীরের জনগণ তাদের স্বরূপ উন্মোচন করবে বলেও আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার মন্তব্য করেছেন।  

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা পুনর্বহাল করার জন্য ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপিসহ সাতদলীয় জোট ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন’ (পিএজিডি) গঠন করেছেন। তারা যৌথভাবে জেলা উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাচনেও অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর থেকেই বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন গুপকারের শীর্ষনেতারা।# 

 পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।