‘ইউএপিএ’ মুসলিম ও দলিতদের কারাগারে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে: ওয়াইসি
-
ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি এমপি
ভারতের মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেছেন, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন ‘ইউএপিএ’ একটি খারাপ আইন যা নিরীহ মুসলিম, দলিত এবং যারা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।
তিনি আজ (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বেআইনি ক্রিয়াকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) একটি কঠোর আইন এবং এটি কেবল নিরীহ মুসলিম ও দলিতদের কারাগারে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কয়েক দশক ধরে মুসলিম ও দলিত যুবকদের উপর অত্যাচার ও তাদের কলুষিত করার জন্য মৌলবাদ ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওয়াইসি বলেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে প্রকৃত ধর্ম নিরপেক্ষ অনুশীলন হচ্ছে। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি’র এক এমপি গান্ধীজির হত্যাকারীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিলেন।
এরআগে হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, হিন্দুত্ব সংঘ সংসদীয় রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের বিরোধী। কারণ সংসদ এবং বিধানসভাগুলোতে কেবলমাত্র মুসলিম প্রতিনিধিত্বই সংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
ওয়াইসি বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদ এই মিথ্যা নিয়ে নির্মিত হয়েছে যে কেবলমাত্র একটি সম্প্রদায়ের কাছেই সমস্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকা উচিত এবং মুসলিমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার অধিকার নেই। সংসদ এবং আইনসভায় আমাদের বৃহত্তর উপস্থিতি হিন্দুত্ব সংঘের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে।
ওয়াইসির এ ধরণের মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন তার দল ‘মিম’ সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসন জয়ী হয়েছে। তাঁর মন্তব্য এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, সংসদীয় নির্বাচনে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পেয়েছে। এবং বিহারে পাঁচ আসনে তাঁর দলের জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯২৭ সালে ‘মিম’ দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমদিকে এই দলটি কেবল তেলঙ্গানা রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৮৪ সাল থেকে, ‘মিম’ ধারাবাহিকভাবে হায়দরাবাদ লোকসভা আসনে জয়ী হয়ে আসছে। তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রের পরে দলটি এখন বিহারে নিজের খাতা খুলেছে। ২০১৪ সালের তেলঙ্গানা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি সাতটি আসন জিতেছিল। একইসময়ে, দলটি ২০১৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসনে জিতে সফল হয়েছিল। এবার বিহারে পাঁচ আসনে জয়ের পরে দলটি বেশ উৎসাহী হয়ে উঠেছে। এই প্রথমবারের মতো তারা দলীয় সদর দফতর হায়দরাবাদের বাইরে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিধানসভা আসন জিততে সমর্থ হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।