আরব দেশগুলোতে লবণপানি পরিশোধন কেন্দ্র বন্ধ; খাবার পানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i159422-আরব_দেশগুলোতে_লবণপানি_পরিশোধন_কেন্দ্র_বন্ধ_খাবার_পানি_দ্রুত_ফুরিয়ে_আসছে
পার্সটুডে- হরমুজ সংকটের কারণে লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পানীয় জলের সরবরাহ মাত্র ১০ দিনের মতো অবশিষ্ট আছে।
(last modified 2026-05-16T04:16:00+00:00 )
মে ১৬, ২০২৬ ১০:১২ Asia/Dhaka
  • আরব দেশগুলোতে খাবার পানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে
    আরব দেশগুলোতে খাবার পানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

পার্সটুডে- হরমুজ সংকটের কারণে লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পানীয় জলের সরবরাহ মাত্র ১০ দিনের মতো অবশিষ্ট আছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের চরম শুষ্ক জলবায়ু এবং কোনো স্থায়ী নদীর অনুপস্থিতি পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (পিজিসিসি)র সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি করেছে।

জানা গেছে, এই ছয়টি আরব দেশের মোট নবায়নযোগ্য ভূগর্ভস্থ এবং ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস বছরে মাত্র প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার। এর অর্থ হলো, এই দেশগুলোতে মোট প্রাকৃতিক পানির পরিমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোটোম্যাক নদীর বার্ষিক প্রবাহের চেয়েও কম, অথচ তা ৬২ মিলিয়ন মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যানে এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে "চরম পানি সংকট" কবলিত অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই বিপর্যয়ের গভীরতা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আমাদের জানতে হবে, ওমানে বার্ষিক মাথাপিছু পানি সরবরাহ ২৯৬ ঘনমিটারেরও কম, সৌদি আরব ও বাহরাইনে তা ৭৫ ঘনমিটার এবং কাতারে মাত্র ২০ ঘনমিটার।

এই অঞ্চলের প্রাচীন ভূগর্ভস্থ পানির উৎস, যেমন উম্ম আল-রিদুমা-দাম্মাম পানির স্তর এবং নিওজিন সিস্টেম, অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে এবং এতে থাকা অবশিষ্ট পানি এতটাই লবণাক্ত হয়ে গেছে যে তা কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

এই প্রাকৃতিক অচলাবস্থা আরব দেশগুলোকে এক ঐতিহাসিক ও ভয়ানক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং তাদেরকে “লবণাক্ত পানির নরকে” পরিণত করেছে। ১৯৯০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে, এই অঞ্চলে লবণাক্ত পানি পরিশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি উৎপাদন বিস্ময়করভাবে ৩১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে, ৩,৪০১টি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রসহ এই অঞ্চলে বিশ্বের মোট কারখানার প্রায় ১৯ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতার ৩৩ শতাংশ (২২.৬ মিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি) রয়েছে।

পানি প্রাপ্তির ব্যাপারে ইরান এবং দক্ষিণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় এবং কৌশলগত পার্থক্য রয়েছে। বিশাল নদী, বাঁধ এবং প্রচুর অভ্যন্তরীণ সম্পদের কারণে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার ওপর ইরানের নির্ভরতা খুবই কম।

ইরানের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ঘনমিটার, যা আরব দেশগুলোর তুলনায় মাত্র ৭ শতাংশ। এই পার্থক্যের কারণে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব এই দেশগুলোর অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পানি লবনমুক্ত করার এই সমস্ত উন্নত প্রকৌশল ব্যবস্থা এই জলপথের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।