ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনা বসতি স্থাপনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন রাহুল গান্ধী
-
কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনা বসতি স্থাপনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি। তিনি আজ (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘ওনার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করুন- দেশের মাথা নত হতে দেব না।’ একইসঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও দলটির মুখপাত্র রণদীপ সিং সূর্যেওয়ালা প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে টুইটবার্তায় লিখেছেন, ‘মোদীজি ৫৬ ইঞ্চির বুক কোথায় গেল?’
গতকাল (সোমবার) গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয় ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে কমপক্ষে সাড়ে চার কিলোমিটার ভিতরে অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে চীন ১০১ টি বাড়ি তৈরি করেছে। এরপরেই ওই ইস্যুতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ওই ইস্যুতে জবাব দাবি করেছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদাম্বরম। বিজেপি এমপি টাপির গাও-এর দাবি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব দাবি করেন চিদাম্বরম। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, চীন অরুণাচলের মধ্যে প্রবেশ করে প্রায় ১০০ বাড়ি ও রাস্তা তৈরি করেছে। পি চিদাম্বরমের দাবি, বিজেপি এমপির দাবি যে সত্যি তা উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমেই স্পষ্ট। কিন্তু ভারত সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করেই ফের একবার চীনকে ক্লিনচিট দিচ্ছে এবং পূর্বতন সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করছে।
পি চিদাম্বরম বলেন, ‘বিজেপি এমপি টাপির গাও অভিযোগ করেছেন যে অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে বিতর্কিত এলাকায় চীনারা গতবছরে একটি ১০০ বাড়ির গ্রাম, একটি বাজার এবং একটি দুই লেনের সড়ক তৈরি করেছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে এটি স্পষ্ট যে বিতর্কিত অঞ্চলে চীনা নাগরিকদের স্থায়ী বসতিতে পরিণত করে চীনারা স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করেছে। এই অবাক করা ঘটনা সম্পর্কে সরকারের কী বক্তব্য রয়েছে? সরকার কী চীনকে আরেকটি ক্লিন চিট দেবে? নাকি স্পষ্টিকরণ দেওয়ার জন্য সরকার পূর্ববর্তী সরকারকে দোষ দেবে?’
অরুণাচল প্রদেশে চীনা গ্রাম স্থাপনের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি বিরোধিতা করা হয়নি। চীনের সামনে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে কী না সেই প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গত কয়েকবছরে চীন ‘এলএসি’ বরাবর পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টও এসেছে।’
‘সরকার ভারতের সুরক্ষা সম্পর্কিত প্রতিটি উন্নয়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে’ বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমিবএ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।