কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশে হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৯ রোগীর মৃত্যু
-
কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশে হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব
ভারতের কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
কর্ণাটকের চামরাজনগরে এক সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৪ জন রোগী মারা গেছে। এদের মধ্যে ২৩ জন করোনা রোগী এবং একজন অন্য রোগের কারণে অক্সিজেনের সাপোর্টে ছিল। আজ (সোমবার) এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে ওই তথ্য জানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কীভাবে মৃত্যু তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বিজেপিশাসিত কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। তিনি চামরাজনগর জেলা কালেক্টরের কাছে ওই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। কী করে ওই ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ কে সুধাকর বলেছেন, চামরাজনগরের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। আমি মহীশূর, মান্ড্যা এবং চামারজনগরে যাচ্ছি, সেখানে সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে হয়েছে খতিয়ে দেখার জন্য। সেখানে সমস্যা যাই হোক না কেন, তা সমাধান করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, গতকাল (রোববার) দিবাগত রাত পৌনে ১২টা নাগাদ হাসপাতালের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। এরপরেই একেক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রোগীরা।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোববার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’
এদিকে, বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের মীরাটেও অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে, আজ ‘নবভারত টাইমস’ জানিয়েছে। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা এসব রোগীর আত্মীয়স্বজনদের অভিযোগ, অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ফলে ৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের কোমর্বিডিটি ছিল। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্য মেডিক্যাল কর্মকর্তা (সিএমও) ডাঃ অখিলেশ মোহন বলেন, পাঁচজন রোগীই আইসিইউতে ভর্তি ছিল। রোগীদের মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা যে অভিযোগ করেছেন সেই বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সিএমও আরও বলেন, তারা তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করেছেন। অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীদের মৃত্যুর জন্য দোষী ব্যক্তিদের তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এরআগে, গত ২৩ এপ্রিল দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/০৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।