মুকুল রায়কে ‘পিএসি’র সদস্য করার চেষ্টা 'মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ছলনা': বিজেপি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i93726-মুকুল_রায়কে_পিএসি’র_সদস্য_করার_চেষ্টা_'মুখ্যমন্ত্রীর_রাজনৈতিক_ছলনা'_বিজেপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধায়ক মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’র (পিএসি) সদস্য করার চেষ্টাকে 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ছলনা' বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি। আজ (শুক্রবার) রাজ্য বিজেপি’র সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।   
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২৫, ২০২১ ১২:১৮ Asia/Dhaka
  • (বামে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যা (ডানে) মুকুল রায়
    (বামে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যা (ডানে) মুকুল রায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধায়ক মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’র (পিএসি) সদস্য করার চেষ্টাকে 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ছলনা' বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি। আজ (শুক্রবার) রাজ্য বিজেপি’র সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।   

বিধানসভার রীতি অনুযায়ী, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বিরোধীদের হাতেই থাকে। এক্ষেত্রে মোট ২০ জন সদস্যদের মধ্যে সরকারপক্ষের ১৩ জন এবং বিরোধীপক্ষের ৭ জন বিধায়কের নাম বিধানসভায় জমা পড়েছে। রীতি মেনে বিরোধী পক্ষের হাতেই গুরুত্বপূর্ণ ওই কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। বিধানসভার স্পিকার পিএসি চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করবেন। এবার ‘পিএসি’ কমিটির চেয়ারম্যান পদে মুকুল রায়ের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এখন এটি কেবলমাত্র ঘোষণার অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল শিবির। 

মুকুল রায় খাতায় কলমে বিজেপি বিধায়ক হলেও তিনি সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে পিএসি কমিটির সদস্য করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মুকুল রায়কে ‘বিজেপি পার্টির মেম্বার’ বলে উল্লেখ করে এতে অসুবিধার কী আছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেছেন।    

মমতা বলেন, ‘মনোনয়নপত্র যে কেউ জমা দিতে পারেন। যিনি  মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মুকুল রায়, তিনি তো বিজেপি পার্টির মেম্বার। এতে সমস্যার কী আছে? তাঁকে তো বিনয় তামাংদের দলও সমর্থন করেছে। গোটা বিষয়টা বিধানসভার স্পিকারের উপর নির্ভর করছে। আর যদি ভোটাভুটি হয়, তাহলে আমরা ভোটে জিতব। মানুষের ভোটে জিতে এসেছি, যাকে প্রয়োজন তাঁকে জেতাব’ বলেও মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন। 

দিলীপ ঘোষ

এ প্রসঙ্গে আজ (শুক্রবার) বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে মুকুল রায়কে দলে যুক্ত করেছেন, এখন তিনি তাঁকে ‘বিজেপি’র লোক’ বলছেন! কোনও আইন মানা হচ্ছে না। পরম্পরাগতভাবে বিজেপি থেকে মনোনীত ব্যক্তিকেই সদস্য করা উচিত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি থেকে কাউকে নিতে চাচ্ছেন না। গতবার বিরোধীদের জন্য ১৫টি পদ ছিল, এবার ১০টি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওনারা নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছেন। ওনাদের ইচ্ছা হলে কাউকে কোনও পদ না দিতেও পারেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে চলা উচিত। ওনারা কোনও রীতিনীতি পরম্পরা মানেন না। সংবিধানও মানেন না। গায়ের জোর দেখানো হচ্ছে।’   

রাজ্য বিজেপি’র সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, ‘শাসকদলের কাছে রাজনৈতিক নৈতিকতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। রাজনৈতিক নৈতিকতা আজকে মৃত। এভাবে ছলনা করতে হবে! রাজনৈতিক ছলনার আশ্রয় নিতে হবে রাজ্যের যিনি মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে!’ 

বিজেপি নেতা ও সাবেক রাজ্যপাল তথাগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মুকুল রায়কে বিজেপি সাব্যস্ত করে তাকে পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করার চেষ্টা এক অসাধারণ রাজনৈতিক ন্যাকামির পরিচয়। এটা কী বিধানসভা চালানো হচ্ছে না শ্বশুরবাড়িতে জামাই ঠকানো হচ্ছে?’  

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিষদীয়মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বৈধ মনোনয়ন জমা পড়ার পরে ২০ জনের মধ্যে স্পিকার যাকে চাইবেন তাঁকে চেয়ারম্যান করবেন। স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমাদের এক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা নেই।’ 

সব মিলিয়ে সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়ক মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য ও পরবর্তীতে তাঁকে চেয়ারম্যান করার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছে বিজেপি। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।